টকিজ

ডিলানকে নিয়ে আরো এক ছবি স্করসেসের

ফিচার ডেস্ক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

বব ডিলানকে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি ছবি বানালেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মার্টিন স্করসেসে। ছবিতে পরিচালক এ রকস্টারের প্রায় বিস্মৃত অতীতের সঙ্গে কল্পনা ও প্রকৃত ঘটনার মিশেল দিয়ে দারুণ এক কাহিনী নির্মাণ করেছেন।

রোলিং থান্ডার রিভিউ: আ বব ডিলান স্টোরি ছবিটি বুধবার মুক্তি পাচ্ছে নেটফ্লিক্সে, সঙ্গে সীমিতভাবে আরো কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহেও চলবে ছবিটি।

এ ছবিতে স্করসেসে মূলত তুলে ধরেছেন ডিলানের ১৯৭৫ সালের ইউএস ট্যুরকে ঘিরে ঘটা ঘটনাবলি, ডিলানের এ সফর ছিল মূলত একটি রোড ট্রিপ। এ সফরের বাইরে রোলিং থান্ডার মনে করিয়ে দেবে ওই সময়ে ডিলানের সঙ্গে একঝাঁক তারকা শিল্পীর এক মঞ্চে এসে গান গাওয়ার ঘটনা, যখন ডিলান নিজে প্রায় অখ্যাত একজন শিল্পী। এ সফরে সংগীত পরিবেশন করেন লোকসংগীতশিল্পী জনি মিচেল, জোন বায়েজ, রজার ম্যাকগুইন। আরো ছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিনসবার্গ এবং তখনই দারুণ বিখ্যাত রকার মিক রনসন। এ শিল্পী ডিলানের শোয়ের সামান্য আগে ডাক পেয়েও হাজির হয়ে পরিবেশনায় অংশ নিয়েছিলেন।

‘এ সফর সফল হয়নি, যদি অর্থের মাপকাঠি দিয়ে সাফল্য মাপা হয়। তবে এটা একটা দারুণ অ্যাডভেঞ্চার ছিল’—ডিলান বলেছেন স্করসেসের এ ছবিতে।

১৯৭৫ সালের ১০০ ঘণ্টার উপরের ফুটেজ থেকে স্করসেসে এ ছবি বানিয়েছেন, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিলানের বর্ণনা, সাক্ষাত্কার। এছাড়া সাক্ষাত্কার আছে জোন বায়েজের, শ্যারন স্টোনের মতো আরো অনেক অভিনয়শিল্পীর।

‘আমরা এটাকে প্রামাণ্যচিত্র বলতে চাই না’—বলেছেন মার্গারেট বডি, প্রযোজকদের একজন।

২০০৫ সালে ডিলানকে নিয়ে বানানো নো ডাইরেকশন হোম ছবিতে স্করসেসে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছিলেন, ওই ছবিতে সোজাসুজি তিনি ডিলানের ১৯৬০ সালের বদলকে তুলে এনেছিলেন। কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে নিউইয়র্কের লোকসংগীতের জগতে ঢুকে ডিলান কীভাবে আন্তর্জাতিক রকস্টারে পরিণত হলেন, তা-ই ছিল ওই ছবির বিষয়বস্তু।

নতুন ছবির কৌতূহলোদ্দীপক দৃশ্যের মধ্যে আছে ১৯৭৫ সালেই ডিলান মুখে সাদা পাউডারের প্রলেপ মেখে গাইছেন সেই বিখ্যাত দুটি গান মি. টামবোরিন ম্যান ও নকিং অন হেভেন’স ডোর।

‘ওই সফরে ববকে এতটাই অন্য রকম দেখাচ্ছে, ও ভালো অভিনেতাও’—বলেন মার্গারেট।

এ ছবিতে স্করসেসের কল্পিত চরিত্রের মধ্যে একজন হলেন বদরাগী এক ডাচ চলচ্চিত্র পরিচালক, আর এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেটি মিডলারের স্বামী মার্টিন ফন হাজেলবার্গ, ছবিতে যিনি ১৯৭৫ সালের ওই ট্যুরের মূল নির্যাসের অনুসন্ধান করছেন।

খানিকটা রসাত্মক সাক্ষাত্কারে ওলন্দাজ পরিচালক তীব্র রকম ভিনদেশী টানে অভিযোগ করছেন, ডিলান তাকে কোনো প্রশ্নেরই সোজাসুজি উত্তর দেননি।

ছবিতে ১৯৭৫ সালের সফর নিয়ে ডিলানের বানানো প্রামাণ্যচিত্রের প্রায় কিছুই নেয়া হয়নি। আর একবারে ডিলান ও প্রেমিকা জোন বায়েজের মধ্যকার উপহাস করে পরস্পরকে আক্রমণের ফুটেজও বাদ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বায়েজের পরনে সেদিন ছিল বিয়ের পোশাক। এবং দুই সাবেক যুগল কেন তারা দুজনই অন্যকে বিয়ে করেছেন তাই নিয়ে ঠাট্টা করছিলেন।

 

সূত্র: রয়টার্স