আন্তর্জাতিক খবর

সিআইএ’র ‘এজেন্ট’ ছিলেন কিমের ভাই নাম

বণিক বার্তা অনলাইন | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং নাম মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট ছিলেন। সিআইএ’র সাথে কিম জং নামের এই সম্পর্ক বিষয়ে জানতেন এমন এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২০১৭ সালে কুয়ালামপুরের বিমানবন্দরে মুখমণ্ডলে প্রাণঘাতী রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। খবর রয়টার্স।

সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এমন তথ্যের বিষয়ে রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে সিআইএ’র কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে কিম জং নাম সিআইএ’র এজেন্ট ছিল বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সেই বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমটিতে শুধু বলা হয়েছে, নামের সাথে সিআইএ’র সম্পর্ক ছিল এমন তথ্য তারা জানতে পেরেছে।

তবে একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অনেক গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিটে জার্নাল জানিয়েছে, কিম জং নাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বসবাস করতেন এবং পিয়ংইয়ংয়ে তার পরিচিত এমন কোনো শক্তি ছিল না যে, তিনি সিআইএকে দেশের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করবে।

তবে চীনের নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে নামের যোগাযোগ ছিল বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সাবেক এসব কর্মকর্তারা।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর সাথে কিম জং নামের সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক আনা ফিফিল্ড। কিম জং উনকে নিয়ে লেখা তার ‘দ্য গেরেট সাকসেসর’ বইতে। মঙ্গলবার বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গোয়েন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে সাংবাদিক আনা ফিফিল্ড জানান, কিম জং নাম বিভিন্ন সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন।

আনা ফিফিল্ড তার বইয়ে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কিম জং নামের সর্বশেষ ভ্রমণের যে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে সেখানে তাকে এশীয় একজন লোকের সাথে হোটেলে দেখো গেছে। যাকে সিআইএ’র এজেন্ট বলে মনে করা হয়।

এই বইয়ে আরও বলা হয়েছে, হোটেলে থাকার সময় নামের ব্যাকপ্যাকে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছিল যেটা তাকে গোয়েন্দা সংক্রান্ত কাজের জন্য পরিশোধ করা হয়েছিল অথবা তিনি ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে আয় করেছিলেন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ২০১৭ সালে মুখমণ্ডলে ‘ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট’ প্রয়োগ করে কিম জং ন্যামকে হত্যা করা হয়। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ম্যাকাওগামী একটি বিমানে চড়ার প্রস্তুতিকালে ন্যামের ওপর হামলা চালায় দুই নারী। এতে নিহত হন তিনি। দুই হামলাকারী কিমের মুখে এক ধরনের তরল বিষ মেখে পালিয়ে যায়। হামলার পর হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, কিমের আদেশে তার সংভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, কিমের সংভাই উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্রের অন্যতম সমালোচক ছিলেন। যদিও বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।