শহীদ ডা. শামসুদ্দিন বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

উদ্বোধনের সাড়ে ৪ বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম

দেবাশীষ দেবু সিলেট | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে এক জনসভায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুরও ঘোষণা দেন। এরপর প্রায় সাড়ে চার বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় লোকবল, অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয় ১৯৭৮ সালে। চৌহাট্টায় পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে ১৯৭৮-৯১ সাল পর্যন্ত। পরে এখানেই ১৯৯২ সালে সিলেট সদর হাসপাতালের যাত্রা হয়। ওই বছরই প্রথমে এর নাম দেয়া হয় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল। এরপর সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল হিসেবে নামকরণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। তবে শুরু থেকেই হাসপাতালটি লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে ভুগছে। ১০০ শয্যা হলেও বর্তমানে এখানে লোকবল রয়েছে মাত্র ৩০ শয্যার। তাছাড়া চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে জরুরি বিভাগ।

এ অবস্থায় ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এ শিশু হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়। যার থেকে গণপূর্ত বিভাগ অবকাঠামো সংস্কারে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করার পর বাকি টাকা ফেরত চলে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দফায় দফায় চিঠি দেয়া হয়েছে। পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ২০১৫-১৬ সালে চিঠি দেয়া হয় চার দফায়। একই সময়ে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়। ২০০ শিশুকে চিকিৎসা দিতে চিঠি দেয়া হয় বর্তমান ভবন সম্প্রসারণের জন্যও। এছাড়া হাসপাতালের নামকরণের পাশাপাশি এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে দেয়া হয় একাধিক চিঠি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব চিঠির কোনো জবাব আসেনি। ফলে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও শুরু করা যায়নি।

এদিকে ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। ৩০ শয্যারও কম জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার আছেন মাত্র দুজন করে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), অ্যানেসথেসিস্ট, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, ডেন্টাল সার্জনের পদ রয়েছে একটি করে। এর মধ্যে আরএমও পদটি শূন্য। এ পদে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর ১৫ পদের তিনটি ও চতুর্থ শ্রেণীর ২৮টি পদের মধ্যে একটি পদ শূন্য। উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স ও সহকারী নার্সের মোট ১১১টি পদের মধ্যে শূন্য ২২টি। ল্যাব টেকনিশিয়ান ও অপারেটরের অভাবে অচল হয়ে আছে বিভিন্ন সরঞ্জাম।

এ বিষয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ রোগীকে সেবা দেয়া হয়। প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো না থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের অধীক্ষক ও সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ইউনুছ রহমান বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের লোকজন জানেন। এটি এখন আর আমার অধীনে নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হবে। এজন্য সব জায়গাতেই ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর জনবলসহ প্রয়োজনীয় বিষয়াদির জন্য আবেদন করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের অবকাঠামোর মধ্যে শিশুদের খেলার মাঠসহ আরো অনেক কিছু প্রয়োজন। এসব করতে হলে শামসুদ্দিন হাসপাতালের বর্তমান অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভাঙতে হবে। এটি কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে।