পণ্যবাজার

কয়লার ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য অর্জনের পথে চীন

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমিয়ে আনা ও পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যুতে চীনাদের মধ্যে সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে দেশটিতে নেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবেই পরিবেশ দূষণকারী কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বেইজিং। নির্ধারিত সময়ের আগেই এ লক্ষ্য পূরণের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে দেশটি। গত বছর চীনের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ৫৯ শতাংশ জোগান দিয়েছে কয়লা। খবর রয়টার্স ও মাইনিংডটকম।

বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের অন্যতম বড় উৎস চীন। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত মেনে পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এ গ্যাসের নির্গমন সুনির্দিষ্ট মাত্রায় কমিয়ে আনতে অঙ্গীকার করেছে চীন সরকার। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক জাতীয় জ্বালানি ব্যবহারে কয়লার অবদান ৫৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেছে চীন।

তবে দেশটির ক্রমবিকাশমান ইস্পাত, বিদ্যুৎ ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের কারণে লক্ষ্য পূরণ নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও লক্ষ্য পূরণে দুই বছর বাকি থাকতেই এ খাতে চীনাদের অর্জন চোখে পড়ার মতো। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চীনে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের ৫৯ শতাংশ জোগান দিয়েছে কয়লা, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই লক্ষ্য থেকে মাত্র ১ শতাংশ পিছিয়ে আছে দেশটি।

কয়লার ব্যবহার কমে আসার বিপরীতে গত বছর চীনের জ্বালানি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস, পারমাণবিক শক্তি এবং জল, বায়ু ও সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে। এ সময় দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি পরিভোগে এসব খাতের সম্মিলিত অবদান ছিল ২২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

রাজধানী বেইজিং, সাংহাইসহ চীনের শিল্পোন্নত বড় শহরগুলো মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের শিকার হয়েছে। বিশেষত শীত মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে এসব শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করতে হয়। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-কলেজ। বাধাগ্রস্ত হয় নাগরিক জীবনযাত্রা। এ সমস্যার পেছনে দেশটির কয়লা খাতকে অনেকাংশে দায়ী করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চীনে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলন, আমদানি ও এর ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বায়ুমণ্ডলে কার্বনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কয়লার শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনের অঙ্গীকার পূরণে এটা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের হার কমিয়ে আনতে ২০২০ সাল নাগাদ কয়লার সম্মিলিত ব্যবহার বছরে ৪১০ কোটি টনে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। তবে পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে চীনা এ লক্ষ্যকে অপর্যাপ্ত বলছে চায়না কোল কনজাম্পশন ক্যাপ প্ল্যান অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ প্রজেক্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সরকার কয়লার ব্যবহার কমাতে আগ্রহী। বিপরীতে দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্ত হচ্ছে নবায়নযোগ্য উৎস। বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যবহার। তবে পরিবেশের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চীনে জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক ব্যবহার ৩৫০ কোটি টনের নিচে নামিয়ে আনা জরুরি।

চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। প্রতি বছর বিশ্বে উৎপাদিত ইস্পাতের প্রায় অর্ধেকই চীন এককভাবে জোগান দেয়। দেশটির ইস্পাত কারখানাগুলো কয়লার বড় ভোক্তা। ক্রমবিকাশমান চীনা ইস্পাত খাত কয়লার

ব্যবহার কমিয়ে আনতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী চেন ইউ বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন হলে চীনা ইস্পাত কারখানাগুলো সংকটের মধ্যে পড়বে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত ইস্পাতের দাম বেড়ে যেতে পারে। এটা ক্রমে শ্লথ হয়ে আসা চীনা অর্থনীতির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ  সৃষ্টি করতে পারে।