আন্তর্জাতিক ব্যবসা

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে দুর্লভ খনিজ পদার্থ

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

চলমান চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ ধাপে ধাপে অনেক দূর গড়িয়েছে। সর্বশেষ হুয়াওয়ে-কেন্দ্রিক ঘটনা ও প্রতিপক্ষের পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ ছিল এ বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্ব। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে, এ যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমে অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী করছেন। বিভিন্ন ফোরামসহ সব ধরনের সংবাদ মাধ্যম তুখোড় বিশ্লেষণ হাজির করছে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে। খবর জাপান টুডে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দুই দেশের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে দুর্লভ খনিজ পদার্থকেন্দ্রিক বিশ্ববাণিজ্য। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ১৭ ধরনের দুর্লভ খনিজ পদার্থকেন্দ্রিক বিশ্ববাণিজ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এসব দুর্লভ খনিজ পদার্থ রোবটিকস, ড্রোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সম্প্রতি চীন মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছে। এদিকে ট্রাম প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি ও চীনের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করার পর চীন যুক্তরাষ্ট্রে চিরতরে দুর্লভ খনিজ পদার্থ রফতানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

ইউরোপিয়াম, স্ক্যানডিয়াম ও ইতাবিয়ামের মতো দুর্লভ খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে মজুদ রয়েছে চীনের খনিগুলোয়। পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দুর্লভ খনিজ পদার্থ উত্তোলন ও পরিশোধনকারী দেশ চীন। নিম্ন মজুরি ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশগত কারণে সস্তায় ও সহজে প্রচুর পরিমাণ দুর্লভ খনিজ পদার্থ উত্তোলন করতে পারে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশ।

চীন দুর্লভ খনিজ পদার্থ উত্তোলনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দুর্লভ খনিজ পদার্থ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়ও একটি দুর্লভ খনিজ পদার্থের খনি রয়েছে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, রাশিয়া ও ভারত এ-জাতীয় খনিজ পদার্থ উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এদিকে ভিয়েতনাম ও ব্রাজিলেও প্রচুর পরিমাণ এ-জাতীয় দুর্লভ খনিজ পদার্থের মজুদ রয়েছে।

ফনিক্সের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের থান্ডারবার্ড স্কুল অব গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ও ডিন মেরি বি টিগার্ডেন বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্লভ খনিজ পদার্থ রফতানি না করার হুমকিতে এখনই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে না, এ ঘোষণায় এখনই আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে না। দুর্লভ খনিজ পদার্থ আমদানির আরো অনেক বিকল্প রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের বাণিজ্যনীতি অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক সিমন লেস্টার টিগার্ডেনের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, চীন হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্লভ খনিজ পদার্থ রফতানি বন্ধ করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

দুর্লভ খনিজ পদার্থের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র থাকলেও এ দেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্লভ খনিজ পদার্থ আমদানিকারীও বটে। প্রয়োজনীয় এ-জাতীয় খনিজ পদার্থের ৮০ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ-জাতীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে চীন থেকে। গত বছর যেখানে চীন এ-জাতীয় খনিজ পদার্থ উৎপাদন করে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনের মতো, সেখানে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ-জাতীয় খনিজ পদার্থ উৎপাদন করেছে মাত্র ১৫ হাজার টন।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শক্রভাবাপন্ন হয়ে উঠলে দুর্লভ খনিজ পদার্থ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অন্যদিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র দুর্লভ খনিজ পদার্থ উত্তোলন করা হয় মাউন্টেইন পাস মাইনে বা গিরিপথ খনিতে, যেখানে চীন এ খনিজ পদার্থ পরিশোধনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ এ খনিতে খনিজ পদার্থ পরিশোধনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নির্ভরশীল।