আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ভারতে সবচেয়ে বেশি এফডিআই এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

সর্বশেষ অর্থবছরে ভারতে সবচেয়ে বেশি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় ভারত সিঙ্গাপুর থেকে এত বেশি এফডিআই আনতে পেরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য ডন।

ভারতীয় শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সম্প্রতি ভারত সিঙ্গাপুর থেকে সবচেয়ে বড় এফডিআই আনতে সক্ষম হয়েছে। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া সর্বশেষ অর্থবছরে সিঙ্গাপুর থেকে ১ হাজার ৬২৩ কোটি ডলার (২ হাজার ২১০ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলার) এফডিআই এসেছে ভারতে। ভারতে এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের পরে রয়েছে মরিশাস, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। ভারতে দেশগুলোর এফডিআই যথাক্রমে ৮০৮ কোটি, ৩৮৭ কোটি, ৩১৪ কোটি ও ২৯৭ কোটি ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতে মোট এফডিআই এসেছে ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ডলার।

বেঙ্গালুরুকেন্দ্রিক ফ্লিপকার্ট একটি ভারতীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। ফ্লিপকার্ট সিঙ্গাপুরস্থ ওয়ালমার্টের একটি শাখা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বশেষ অর্থবছরে ওয়ালমার্ট ভারতে বড় ধরনের ব্যবসা করছে। অনেকে এ কারণেই গত অর্থবছরে সিঙ্গাপুর থেকে ভারতে এত বেশি এফডিআই এসেছে বলে মনে করছেন। প্রসঙ্গত, গত অর্থবছরে ভারতের অনলাইনকেন্দ্রিক খুচরা বাজারের ৭৭ শতাংশই ছিল ফ্লিপকার্টের দখলে।

শুধু ২০১৮-১৯ অর্থবছরই নয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরও ভারতে সবচেয়ে বেশি এফডিআই এসেছিল সিঙ্গাপুর থেকে, যা ভারতে মোট বিদেশী বিনিয়োগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

কয়েক বছর আগে ভারত সিঙ্গাপুর, মরিশাসসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে করচুক্তি সংশোধন বিল সই করে। এ চুক্তির ফলে দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের করসমতা ও সমতা ভিত্তিতে বাণিজ্য করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে করচুক্তি সংশোধন বিলের কারণেই ভারতে সম্প্রতি এত বেশি এফডিআই আসছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা।

সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ থাকাসহ অবস্থানগত কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব হওয়ায় এফডিআই বিনিয়োগে সিঙ্গাপুর অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কারণ উল্লিখিত সুবিধাগুলো থাকায় সিঙ্গাপুরে অজস্র বিদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘাঁটি গেড়েছে, যেসব সুবিধা বিশ্বের অন্য অনেক দেশে নেই।

অন্যদিকে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় মরিশাসে কর সুবিধা বা করকেন্দ্রিক আইন অনেক বেশি সুবিধাজনক তথা ব্যবসাবান্ধব। ১৯৮২ সালে ভারত ও মরিশাসে একটি করচুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তির ফলে কর সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময় মরিশাস থেকেও ভারতে এফডিআই ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান কর কমাতে অন্যান্য দেশ থেকে নিজেদের কারখানা বা অফিস সরিয়ে মরিশাসে নিয়ে আসছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক বড় বড় বিনিয়োগও মরিশাস হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।