টকিজ

গিরিশ কারনাডের প্রয়াণ

বণিক বার্তা অনলাইন | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাহিত্যিক গিরিশ কারনাড (৮১)। আজ সোমবার সকালে বেঙ্গালুরুতে লাভেলি রোডে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, জি নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

গিরিশ কারনাড বহুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে এর মধ্যে কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। পেয়েছেন পদ্মশ্রী (১৯৭৪), পদ্মভূষণ (১৯৯২) ও জ্ঞানপীঠ (১৯৯৮) সম্মান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৬০ সাল থেকে কন্নড় ভাষায় লেখক হিসেবে তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন।

১৯৩৮ সালের ১৯ মে বর্তমান মহারাষ্ট্রের মাথেরানে জন্মগ্রহণ করেন গিরিশ কারনাড। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার পড়াশোনার শুরুটা হয়েছিল কর্ণাটকে। অঙ্ক ও সংখ্যাতত্ত্বে স্নাতক করেছেন। এরপর অক্সফোর্ডে রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। গিরিশ কারনাডের স্ত্রী সরস্বতী গণপতি। তাদের দুই সন্তান।

১৯৭০ সালে ‘সংস্কার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় গিরিশ কারনাডের যাত্রা শুরু। অভিনয় করেছেন ‘নিশান্ত’, ‘মন্থন’, ‘স্বামী’, ‘পুকার’-এর মতো হিট চলচ্চিত্রে। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় ‘ইকবাল’। এই চলচ্চিত্রে তার অভিনয় পছন্দ করেন দর্শক। সালমান খানের দুটি আলোচিত চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে ‘এক থা টাইগার’ এবং ২০১৭ সালে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ চলচ্চিত্রে গিরিশ কারনাডের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন দর্শক। অন্যদিকে, ছোট পর্দায়েও গিরিশ কারনাড সমান জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ সালে জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘মালগুড়ি ডেজ’-এ তিনি অভিনয় করেন।

গিরিশ কারনাডগিরিশ কারনাডচার দশকের বেশি সময় ধরে নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গিরিশ কারনাড। বহু নাটক লিখেছেন। হিন্দি ছাড়া আরও কয়েকটি ভাষায় অভিনয় করেছেন। পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে কন্নড় ছবি ‘বংশবৃক্ষ’র হাত ধরে পরিচালক হিসেবে যাত্রা করেন গিরিশ কারনাড। এ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। বাংলাদেশেও তার কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।