কক্সবাজারে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর সম্পদ জব্দ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কক্সবাজার | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

আদালতের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী কক্সবাজারের টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো ও তার পরিবারের প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল টেকনাফ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি দোতলা বাড়িসহ এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করে। এ সময় জব্দকৃত বাড়ি থেকে নুরুল হক ভুট্টো ও তার ভাই নুর মোহাম্মদের পরিবারকে বের করে দেয়া হয়।

জানা গেছে, ভুট্টোর বাড়ি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ায়। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট (ক্রিমিনাল পারমিশন মিস মামলা নং-৫৭৭/২০১৯) নুরুল হক ভুট্টো, ভাই নুর মোহাম্মদ ও বাবা এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ দমন আইনে মামলা করে সিআইডি। এ মামলায় গত ২৩ মে তিনজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ। তিনি ক্রোকবদ্ধ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুলিশ সুপার কক্সবাজারকে তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) নিয়োগ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, মূল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক ওই সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

এদিকে গত মার্চে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নিহত হন। এর পর থেকে নুরুল হক ভুট্টো ও তার বাবা এজাহার মিয়া আত্মগোপনে আছেন। সম্প্রতি ভুট্টো আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে প্রচলিত আছে। এর মাঝেই পুলিশ ভুট্টো ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দ করল।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আদালতের নির্দেশে পুলিশ ইয়াবা সম্রাট নুরুল হক ভুট্টো ও তার ভাই নুর মোহাম্মেদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে। ৩ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশ দুটি দোতলা বাড়ি এবং ১১টি স্থানে থাকা প্রায় ২০ একর জমি জব্দ করা হয়। ইয়াবার টাকায় এসব সম্পদ কেনা হয়েছে। এখন থেকে পুলিশ এ সম্পদের দেখাশোনা করবে।

তিনি বলেন, গত মার্চে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নিহত হওয়ার পর থেকে নুরুল হক ভুট্টো ও তার বাবা এজাহার মিয়া আত্মগোপনে আছেন। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। ভুট্টোর বিরুদ্ধে টেকনাফসহ বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র, মানব পাচার, হত্যাসহ নানা অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে। ইয়াবার টাকায় কেনা ভুট্টো পরিবারের অন্যান্য সম্পদেরও অনুসন্ধান চলছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আদালত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টো ও তার স্বজনদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সম্পদ ক্রোকের জন্য এসপিকে (পুলিশ সুপার) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন। ভুট্টো পরিবারের জব্দ করা দুটি ভবন রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সেবা ও শান্তি-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীর দখলে দেয়া হবে। অন্যান্য ক্রোকি সম্পদ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের হেফাজতে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত কেউ রক্ষা পাবে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।