খবর

৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ : দরিদ্র জেলেদের নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:৫৪:০০ মিনিট, মে ৩১, ২০১৯

বঙ্গোপসাগরের মত্স্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং দূষণকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজ। তারা দরিদ্র জেলেদের ৬৫ দিনের জন্য আরোপিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানানো হয়। কোস্ট ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মত্স্য শ্রমিক জোট যৌথভাবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। কোস্ট ট্রাস্টের মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইকুইটিবিডির প্রধান সঞ্চালক এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মত্স্য শ্রমিক জোটের সচিবালয় সমন্বয়কারী মো. মজিবুল হক মনির। আরো বক্তব্য রাখেন কোস্ট ট্রাস্টের বরকত উল্লাহ মারুফ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম এবং বাংলাদেশ কিষাণী সভার রেহেনা বেগম।   

মো. মজিবুল হক মনির বলেন, উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জেলে, যারা ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরেন, সাগরদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান খুবই নগণ্য, এর জন্য দায়ী বরং বড় বড় মাছ ধরার জাহাজ। সাগরদূষণকারী, ক্ষতিকর বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরে মত্স্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য প্রধান দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং দরিদ্র জেলেদের ৬৫ দিনের মাছ ধরার যে নিষেধাজ্ঞা, তার বাইরে রাখতে হবে। 

মানববন্ধন থেকে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দরিদ্র ও প্রান্তিক জেলে, যারা ছোট নৌকা দিয়ে উপকূলের কাছাকাছি মাছ আহরণ করেন, তাদের এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখতে হবে; বঙ্গোপসাগরে মত্স্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ, বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি জাহাজ শিল্প, বিদেশী জাহাজের দূষণ ইত্যাদির ওপর পরিবেশগত জরিপ (এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে এবং তা প্রতিরোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ মাসে ভাতা হিসেবে ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা প্রতি জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করতে হবে; নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ও সাধারণ সময়ে বিদেশী জেলেদের বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে; মাছ ধরার সব নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।