শেষ পাতা

২০১৮ সালে এফডিআই প্রবাহ : শীর্ষে বিসিপিসিএল জাপান টোব্যাকো এসএস পাওয়ার

বদরুল আলম | ০১:৫৯:০০ মিনিট, মে ২৩, ২০১৯

দেশে কয়েক বছর ধরে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ গড়ে ২০০ কোটি ডলারের ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো ৩৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে এ বিনিয়োগ। আর এতে বড় ভূমিকা রেখেছে বিদ্যুৎ ও তামাক খাতের তিন বড় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোসহ শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে এসেছে নিট এফডিআইয়ের ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এফডিআই প্রবাহে শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবার উপরে রয়েছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। বাংলাদেশ-চীন যৌথ এ উদ্যোগের পরই মোট এফডিআই আকর্ষণে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (বাংলাদেশ) লিমিটেড। তৃতীয় অবস্থানে আছে এসএস পাওয়ার আই লিমিটেড।

শীর্ষ বিশের মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এফডিআই আকর্ষণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশে নতুন প্রতিষ্ঠান।

দেশে নিবন্ধিত যৌথ ও শতভাগ বিদেশী মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এন্টারপ্রাইজ সার্ভে বা সমীক্ষার ভিত্তিতে এফডিআই পরিসংখ্যান সংকলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট নিজস্ব মূলধন বা ইকুইটি, পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় বা রিইনভেস্টেড আর্নিং ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বা ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন—এ তিন ভাগে হিসাব করা হয় এফডিআই প্রবাহ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সমীক্ষার আওতায় থাকা যৌথ এবং শতভাগ বিদেশী মালিকানার প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। এর মধ্যে সমীক্ষায় সাড়া দিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি। এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সংগৃহীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিট নিজস্ব মূলধনের প্রবাহ ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। পুনর্বিনিয়োগ করা আয়ের প্রবাহ ছিল ১৩০ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলার। আর আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণপ্রবাহের পরিমাণ ১১৮ কোটি ৬০ হাজার ডলার। এ হিসাবে সর্বমোট নিট এফডিআইয়ের ৩১ শতাংশই প্রতিষ্ঠানের আয়ের পুনর্বিনিয়োগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০১৮ সালে দেশে নিট এফডিআইয়ে শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের অংশ ছিল ৬৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ওই বছর সবচেয়ে বেশি এফডিআই আকর্ষণ করেছে বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ৭১ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বিসিপিসিএলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলা এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে ইসিএ লোন হিসেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছি। ডেট ইকুইটি ভিত্তিতে প্রকল্পটি করছি আমরা। ৮০ শতাংশ ইসিএ লোন বাকি ২০ শতাংশ ইকুইটি। মোট ঋণ নেব ১৯৮ কোটি ডলার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে অর্থ এসেছে বাংলাদেশে, আরো আসবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯