শেষ পাতা

হাইকোর্টে ওয়াসার প্রতিবেদন : রাজধানীর ৫৯ এলাকার পানি দূষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৩৫:০০ মিনিট, মে ১৭, ২০১৯

রাজধানীর ৫৯টি এলাকায় সরবরাহ করা পানি দূষিত বলে স্বীকার করেছে ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান সম্প্রতি দাবি করলেও আদালতে জমা দেয়া তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনেই ময়লা পানির বিষয়টি উঠে এসেছে। গতকাল বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি এ প্রতিবেদন জমা দেয়।

গত তিন মাসে ওয়াসা লিংক ১৬১৬২ নম্বরে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছে ওয়াসা। এসব এলাকা উল্লেখ করে ১৩ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। সেই প্রতিবেদনই গতকাল আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০ অঞ্চলের অধীন ৫৯টি এলাকার পানি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়। এলাকাগুলো হচ্ছে মডস জোন-১-এর আওতাধীন যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মান্ডা, দোলাইরপাড় ও মাতুয়াইল। মডস জোন-২-এর অধীন ভাগলপুর, লালবাগ, বকশীবাজার ও শহীদনগর। মডস জোন-৩-এর অধীন জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি ও মোহাম্মদপুর। মডস জোন-৪-এর অধীন শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর। মডস জোন-৫-এর আওতাধীন মহাখালী ও তেজগাঁও। মডস জোন-৬-এর অধীন সিদ্ধেশ্বরী, শাজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরীবাগ। মডস জোন-৭-এর অধীন কদমতলী, ধনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ, মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনিরআখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর। মডস জোন-৮-এর অধীন বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা। মডস জোন-৯-এর অধীন উত্তরা, খিলক্ষেত, ফায়েদাবাদ, মোল্লারটেক ও রানাভোলা এবং মডস জোন-১০-এর অধীন কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।

গতকাল আদালতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। আর ওয়াসার পক্ষে শুনানি করেন এম মাসুম।

তানভীর আহমেদ বলেন, ওয়াসার এমডি সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। এতে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণে উনি যাতে আর কোনো স্টেটমেন্ট না দেন, সেজন্য আবেদনটা করেছিলাম। গত তিন মাসে ২৯২ জন গ্রাহকের অভিযোগের মধ্যে ঢাকার ১০টি জোনের ৫৯টি এলাকার পানি সবচেয়ে দূষিত বলে ওয়াসারা এমডি তাকসিম এ খান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উনি বলেছেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়, আবার তার দেয়া প্রতিবেদনে ৫৯টি এলাকার পানি সবচেয়ে দূষিত উল্লেখ করা হয়েছে, এটা স্ববিরোধী বক্তব্য।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য কত টাকা ব্যয় হবে, তাও প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়া হয়েছে। এতে যে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা বড় অংকের হওয়ায় আদালত মনে করছেন, কম নমুনা সংগ্রহ করে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা করা হলে খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে আদালত ও আইনজীবী, কেউই এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন। বিষয়টিতে একজন বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন। তাই কমিটিতে যে তিনজন আছেন, তাদের মধ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে ২১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় আসতে বলেছেন আদালত।

গত বছর ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দরিদ্রতা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন এবং প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন তানভীর আহমেদ। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে পানি পরীক্ষার নির্দেশনার পাশাপাশি রুলও জারি করেন আদালত।

হাইকোর্টের নির্দেশে গত বছর ৬ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও আইসিডিডিআরবি,র প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নামের তালিকা গত ১৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়।

কমিটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে গতকাল আদালতকে জানিয়েছে, এ ১০টি জোনের প্রত্যেক এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এতে মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াবে ১ হাজার ৬৫। দুই দফায় এসব নমুনা পরীক্ষায় খরচ ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে নিজস্ব ল্যাবে খরচ হবে ৫০ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ ও দ্বিতীয় দফায় বুয়েটের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় খরচ হবে ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত, এর আগে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় কত টাকা খরচ হবে, তা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদন গত বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পৌঁছে।