প্রথম পাতা

মূলধন জোগান

আরো ৪ হাজার কোটি টাকা চায় বেসিক ব্যাংক

জেসমিন মলি | ০১:৪৫:০০ মিনিট, মে ১৬, ২০১৯

অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবতে বসা বেসিক ব্যাংককে ২০১৪-১৭ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে সরকার। এতেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে আরো ৪ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে বেসিক ব্যাংক।

এ অর্থ চেয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে এক চিঠি লিখেছেন বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আহম্মদ হোসেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোয় ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় রক্ষিতব্য প্রভিশনের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়ে যায়। মূলত ওই প্রভিশন ঘাটতি মূলধনের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণেই সরকার কর্তৃক ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা সরবরাহের পরও ব্যাংকের বিধিবদ্ধ মূলধনের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বিদ্যমান এ মূলধন ঘাটতি ব্যাংকের সার্বিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় মূলধন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ৪ হাজার কোটি টাকা নগদ অথবা অন্য যেকোনো উপযুক্ত মাধ্যমে প্রদান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আহম্মদ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একসময়ের গর্ব করার মতো ব্যাংকটির আজ এ অবস্থা কেন, সেটি সবাই জানে। বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আদায়ে একাধিক পদক্ষেপ নিলেও সেটি কাজ করছে না। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাংকটিকে মূলধন দেয়া দরকার। এছাড়া ব্যাংকটিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

মূলধন ঘাটতির ফলে বেসিক ব্যাংক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং ও ক্রেডিট রেটিংয়ের মান ক্রমন্বয়ে নিম্নতর হচ্ছে। দেশী-বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেসিক ব্যাংকের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে। অধিকাংশ বৈদেশিক ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা স্থগিত করেছে। প্রায় সব বৈদেশিক ব্যাংক ক্রেডিট লাইন স্থগিত রেখেছে। ফলে গ্রাহকদের বৈদেশিক বাণিজ্যসংক্রান্ত ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা ব্যাংকের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া মূলধন ঘাটতি ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিপন্থী, যা ব্যাংকের বিভিন্ন ঝুঁকি প্রশমনে বাধা সৃষ্টি করছে।

বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখা (গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর) থেকে ২০০৯-১২ সময়ে মোট সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একাধিকবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা বদল করে সাড়ে চার বছর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলা করে সংস্থাটি। এসব মামলায় ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংকটির কর্মকর্তা রয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজে-কলমে থাকলেও বেসিক ব্যাংকের এসব ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই অস্তিত্বহীন। এ কারণে বারবার যোগাযোগ করা হলেও গ্রাহকপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।