শেষ পাতা

সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

করের আওতায় আসবে চার কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৪৫:০০ মিনিট, মে ১৬, ২০১৯

পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি মানুষকে করের আওতায় আনা হবে। এজন্য প্রত্যেক উপজেলায় রাজস্ব কার্যালয় চালু করা হবে। প্রয়োজনে একটি উপজেলায় একাধিক রাজস্ব অফিস চালু করা হবে। অন্যদিকে আগামী ১ জুলাই কার্যকর হচ্ছে ভ্যাট আইন। এটি কার্যকর হলে কোনো জায়গায় ভ্যাট বাড়বে না। বরং অনেক স্থানেই কমে আসবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান।

গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরবৃন্দ  ও পর্ষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই কর প্রদানের যোগ্য চার কোটি মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করজালের আওতা বাড়ানো হবে। এ আওতা বাড়াতে আমরা আউটসোর্সিং করব। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় কর অফিস চালু করা হবে। যেখানে গ্রোথ সেন্টার বেশি হবে, সেখানে একাধিক কর কার্যালয় স্থাপন করা হবে। কর দিতে গিয়ে মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা কষ্টের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থা চালু করা হবে। যোগ্যদের করের আওতায় আনতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ভ্যাট আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আইন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য। আইন বাস্তবায়নের পরও যদি কোথাও কোনো সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে। ভ্যাট আইন স্বচ্ছতার সঙ্গে ও ঝামেলাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাট আইন আমরা ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করব। কোনো কোনো পণ্যে ভ্যাট বাড়বে না, বরং কমবে। তবে আমরা ভ্যাটের আওতা বাড়াব। আমরা সবকিছুই সুন্দরমতো করব।

এছাড়া সামনের দিনগুলোয় ব্যাংক সুদের হার যৌক্তিক করা হবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে কী ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতে সারা বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। আমরা এটি বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। করহার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। এছাড়া ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কহার বাড়ানো যৌক্তিক হয়নি। সেটি কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে আরো বেশি গতিশীল করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগের প্রয়োজন। এ খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। এছাড়া সরকারি ব্যয়ের যৌক্তিক কিছু খাত নিয়ে সুপারিশ করেছি। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ার গতি কমে এসেছে। এছাড়া দেশে বৈষম্য বাড়ছে। ফলে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে সরকারের সেবা পৌঁছতে হলে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।