আন্তর্জাতিক খবর

‘ট্রাম্প ভবন’ থেকে কার্বন নির্গমন না কমানোয় মেয়রের হুমকি

বণিক বার্তা অনলাইন | ১৬:৩৯:০০ মিনিট, মে ১৪, ২০১৯

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে- এমনটা মানেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ট্রাম্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এবার তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়ক কার্বন নির্গমনের জন্য জরিমানা করার হুমকি দিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও। ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রাম্পের ম্যানহাটনের ভবন থেকে কার্বন নির্গমন না কমালে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে বছরে ২১ লাখ ডলার জরিমানা করার এই হুমকি দেন দেন তিনি। সোমবার মেয়রের দেয়া এই হুমকির বিষয়টি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে আগামী ১৭ মে থেকে বহুতল ভবনের কার্বন নির্গমন আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখানকার ম্যানহাটন ফিফথ এভিনিউয়েই রয়েছে ৫৮ তলার ট্রাম্প টাওয়ার। সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং ব্যবসায়ীক প্রধান কার্যালয় সেই ট্রাম্প টাওয়ারের লবিতে আয়োজিত এক র‌্যালি থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন সিটি মেয়র।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বেশ জোরেশোরে হুমকি দেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভব্য প্রার্থী বিল ডে ব্লাসিও। তিনি বলেন, আপনি যে কেউ হতে পারেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও হতে পারেন। কিন্তু এটা কোনো বিষয় নয়। আপনাকে অবশ্যই নিউইয়র্কের আইন মেনে চলতে হবে।

তবে ডেমোক্রেটিক মেয়র ব্লাসিও যখন ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন তখন মেয়রের বিরুদ্ধে পাশেই বিক্ষোভ করেন তার প্রতিপক্ষরা। তারা ব্লাসিওকে ব্যর্থ মেয়র হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সাথে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ‘ট্রাম্প ২০২০’ সমর্থন দিতে থাকেন।

মেয়রের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহরের ৭০ শতাংশ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য বহুতল ভবন দায়ী। কিন্তু দায়ী হিসেবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের টাওয়ার এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শহরের আইন অমান্য করা অন্যদের নামও ভবিষাতে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মেয়র ব্লাসিও।

মেয়রের অফিস থেকে দেয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিউইয়ক শহরে ট্রাম্পের আটটি ভবন থেকে কার্বন নির্গমনের যে সীমাবদ্ধতা আছে সেটি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। প্রতিবছর ট্রাম্পের এসব ভবন থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়। যা ৫ হাজার ৮০০ গাড়ির গ্যাস নিঃসরণের সমান।

তবে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন কার্বন নির্সরণের এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বর্তমানে ৫০০ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। যার একটি বড় অংশের মালিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প কোম্পানির নির্বাহী পদ থেকে সরে যান। কিন্তু তিনি কোম্পানির আর্থিক অংশ ধরে রেখেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প টাওয়ার যদি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রতিবছর ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৮ ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া ট্রাম্পের হোটেল এবং অন্যান্য টাওয়ার আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮৭১ ডলার জরিমানার মুখোমুখি হবে।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ কার্বন নির্সরণ কমিয়ে আনতে চাই নিউইয়র্ক। সে লক্ষ্যেই ভবনের কার্বন নির্সরণ আইন কার্যকর করছে কর্তৃপক্ষ। যদিও ট্রাম্প জলাবায়ু চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

কারণ ট্রাম্প মনে করেন জীবাশ্ম ব্যবহারের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সে কারণেই তিনি জ্বালানি খাতকে উন্মুক্ত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এসবের মধ্যে দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে।