প্রথম পাতা

অ্যালঝেইমারের ঝুঁকি শনাক্তে সেলফোন গেম

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০১:০৬:০০ মিনিট, মে ১৪, ২০১৯

মস্তিষ্কের রোগ অ্যালঝেইমার শনাক্তের ক্ষেত্রে মূলত স্মৃতিশক্তির সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করা হয়। এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, মস্তিষ্কে দানা বেঁধে ওঠার আগে রোগটি শনাক্ত করা খুব একটা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। এ সমস্যা সমাধানে পথপ্রদর্শক হয়ে এসেছে স্মার্টফোনভিত্তিক নতুন একটি গেম। ‘সি হিরো কোয়েস্ট’ নামের গেমটি দানা বেঁধে ওঠার আগেই অ্যালঝেইমারের লক্ষণ শনাক্তে সক্ষম বলে দাবি করছেন গবেষকরা। খবর মেডিকেল নিউজ টুডে।

অ্যালঝেইমার্স ডিজিজ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজন করে ব্যক্তি রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বের পাঁচ কোটি লোক বর্তমানে রোগটিতে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে তিন গুণ হবে।

এ রোগ নিয়ে গবেষণায় সর্বশেষ ব্রেক থ্রু এসেছিল চার দশক আগে। অ্যালঝেইমার শনাক্তে গেমটির কার্যকারিতা প্রমাণের বিষয়টিকে দীর্ঘদিনের এ খরা কাটিয়ে নতুন আরেকটি ব্রেক থ্রু হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের নরউইচভিত্তিক ইউনিভার্সিটি ইস্ট অ্যাংলিয়া, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও জার্মানির বনভিত্তিক ডয়েচে টেলিকমের যৌথ উদ্যোগে। এতে দাবি করা হয়, সি হিরো কোয়েস্ট গেমটি অ্যালঝেইমারের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যালঝেইমার্স রিসার্চের প্রধান নির্বাহী হিলারি ইভানস বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালঝেইমারের মতো রোগের ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ দেখা দেয়ার কয়েক দশক আগে থেকেই মস্তিষ্কে পরিবর্তন দেখা দেয়। ভবিষ্যতে রোগটির চিকিৎসাকে আরো কার্যকর করে তুলতে হলে, তা মস্তিষ্কে উচ্চমাত্রায় ক্ষতি করার আগে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা দেয়া শুরু করতে হবে। আমরা প্রায়ই স্মৃতিভ্রংশ রোগীর পথ হারিয়ে বাড়ি ফিরতে না পারার মতো মর্মান্তিক ঘটনা শুনতে পাই। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, পথ গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি অ্যালঝেইমারের একেবারে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর অন্যতম।

সি হিরো কোয়েস্ট গেমটির মূল কেন্দ্রবিন্দুই হলো এ ধরনের সমস্যা। গেমটিতে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন গোলকধাঁধার মধ্যে পথ খুঁজে বের করতে দেয়া হয়।

গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যের ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ২৭ হাজার গেমারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ বিশ্লেষণের পাশাপাশি জেনেটিক পরীক্ষণের জন্য কাজে লাগানো হয় ৬০ জনের একটি দলকে। অ্যালঝেইমার শনাক্তে গেমটির কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণায় পাওয়া ফলাফল নিবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়েছে পিএনএএস জার্নালে।