দেশের খবর

নাটোরে বিএমডিএ : ১৬ টাকা দরে ৯১২টি আমগাছ ইজারা!

মাহবুব হোসেন নাটোর | ২০:৫৩:০০ মিনিট, মে ০৯, ২০১৯

নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের দুই পাশের প্রতিটি গাছের আম মাত্র ১৬ টাকায় ইজারা দিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রকল্পের ব্যয়সংকোচন ও আয় বৃদ্ধির অজুহাতে ৯১২টি গাছের আম এভাবে নামমাত্র মূল্যে ঠিকাদারকে দিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

বিএমডিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের উভয় পাশে আমসহ অন্যান্য ফলদ গাছ রোপণ করে বিএমডিএ। গত বছর থেকে সব গাছে ফল আসা শুরু করেছে। এসব ফল মূলত পথচারী ও পাখির পেটেই যেত। কিন্তু এবার সব আমগাছ লিজ দিয়েছে তারা।

অফিস সূত্র আরো জানায়, আম লিজ নিতে তিনজন ঠিকাদার অংশ নেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নাটোরের শামছুল ইসলামকে ৯১২টি গাছ প্রতিটি ১৬ টাকা দরে লিজ দেয়া হয়। তিন বছরের জন্য মোট ৪২ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন তিনি।

লিজ নেয়া গাছগুলোর আম এখনো পরিপক্ব হয়নি। তবে এরই মধ্যে আম সংগ্রহ শুরু করেছেন ঠিকাদার। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় শহিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের পাশে লাগানো আমগাছগুলো গত বছর থেকে আম ধরতে শুরু করেছে। পথচারী ও স্থানীয়রা এসব গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। পাকা আম পেড়ে খায়। এছাড়া পশুপাখির আহার হয় এসব আমে। কিন্তু এবার কচি আমগুলো পেড়ে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।

সমাজকর্মী খন্দকার মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগে দেখতাম রাস্তার পাশের গাছের ফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত। পাখি খেত। কিন্তু মহাসড়কের পাশের গাছ লিজ দিয়ে হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়েছে বিএমডিএ। সরকারের কী এত টাকার অভাব হয়েছে যে, পাখির খাবারও বিক্রি করে দিতে হবে! সরকার টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যাপক গুরুত্ব দিলেও পাখির আহারে এভাবে ভাগ বসানো স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম নান্টু।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মাদ আহসানুল করিম দাবি করেন, সরকারের আয় বৃদ্ধির জন্যই এটা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

নামমাত্র মূল্যে আম বিক্রির প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, এখানে ভালো জাতের আম নেই। তাছাড়া সবগুলো গাছে আম আসেনি। সবকিছু বিবেচনা করেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আম পাড়ছেন ঠিকাদার শামছুল হকের লোকজন। তারা জানান, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১০ কেজি আম সংগ্রহ করা যাবে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ২০০ কেজি আম সংগ্রহ করা হয়েছে। এ আম ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ঠিকাদার।

মিন্টু নামের এক শ্রমিক বলেন, একটি গাছ থেকে সর্বনিম্ন পাঁচ কেজি আম পাড়া হচ্ছে। আচার তৈরির জন্য প্রাণ কোম্পানির কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে এ আম বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল হকের সেলফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।