ফিচার, আন্তর্জাতিক খবর, , ,

থাই রাজার ‘পবিত্র পানি’ রহস্য

বণিক বার্তা অনলাইন | ২১:০৮:০০ মিনিট, মে ০৪, ২০১৯

সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে প্রথমেই মাহা ভাজিরালংকর্নের পুরো শরীরে পবিত্র পানি ঢেলে ‘শুদ্ধ’ করা হলো। এরপর তিনি ডুমুর কাঠের তৈরি অষ্টভুজ সিংহাসনে বসলে আট ব্যক্তি এসে পুনরায় তার হাতে পবিত্র পানি ঢেলে তাকে পবিত্র করলেন। আর এরই মাধ্যমে শনিবার থাইল্যান্ডের নতুন রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন প্রতীকী অর্থে সাধারণ মানুষ থেকে পৃথিবীর স্বর্গীয় প্রতিনিধিতে পরিণত হলেন। দুইদিন আগে একই পানি নিজের নিরাপত্তাকর্মী সুতিদা তিদজাইয়ের মাথায় ঢেলে পবিত্র করে তাকে রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ভাজিরালংকর্ন। যে ‘পবিত্র পানির’ মাধ্যমে তাদের বারংবার পবিত্র করা হল, সেই পবিত্র পানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, এ পবিত্র পানির আসলে রহস্য কী? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যেতে হবে থাইদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গভীরে। যার সঙ্গে মিশে আছে এই পবিত্র পানির রহস্য।

ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের সমাজব্যবস্থা নদীকেন্দ্রীক। ফলে ভাত ও মাছ হয়ে উঠে তাদের প্রধান খাদ্য। এ কারণে তাদের অধিকাংশ উৎসব-অনুষ্ঠানে জড়িয়ে থাকে পানি। রাজ্যাভিষেকের কয়েক সপ্তাহ আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত শতাধিক উৎস থেকে এ পানি সংগ্রহ করা হয়। থাই জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এই সময়টা শুভক্ষণ।

সংগ্রহ করা পবিত্র এ পানিকে আবার বিশেষ পদ্ধতিতে পবিত্র করা হয়। এর জন্য প্রথমেই এ পানি দেশটির প্রধান বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে পূজার কাজে ব্যবহার করা হয়। এরপর ব্যাংককের সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির ওয়াত সুথাতে সব পানি জড়ো করা হয়। সেখানে পূজা শেষে রাজ্যাভিষেকের জন্য প্রস্তুত হয় পবিত্র এই পানি।

দুই রীতিতে পবিত্র এ পানি রাজপ্রাসাদে ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি হলো রাজাকে ‘শুদ্ধ’ করতে গোসল করার ক্ষেত্রে। যেখানে তিনি একটি সাদা পোশাক পরে থাকেন এবং তার পুরো শরীরে পানি ঢেলে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়টি হলো, রাজার অভিষেককালে। রাজা তার সম্পূর্ণ রাজকীয় পোশাক পরিধান করে ডুমুর কাঠের তৈরি অষ্টভুজ সিংহাসনে বসেন। এরপর নির্দিষ্ট আট ব্যক্তি তার হাতে সেই পবিত্র পানি ঢালেন। এই আট জনের মধ্যে রাজকুমারী মাহা চক্রী সিরিনধর্ন, রাজার ছোট বোন প্রযুত চাঙ ওচা এবং রাজসভার ব্রাহ্মণ ও পন্ডিতরা রয়েছেন।

এরপর নয় স্তরবিশিষ্ট ছাতার নিচে আসন গ্রহণ করেন রাজা। সেখানে তার হাতে তুলে দেয়া হয় সোনা ও হীরা দ্বারা নির্মিত পাঁচটি রাজদণ্ড। এর মধ্যে রয়েছে ৭.৩ কেজি (১৬ পাউন্ড) ওজনের মুকুট, রাজকীয় জুতা, রাজকীয় পাখা ও ঝাড়ু, রাজকীয় তরবারি এবং রাজদণ্ড।

এর মধ্যে থাইল্যান্ডের রাজকীয় ঐতিহ্যে মুকুট সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপিয়ান রীতি অনুকরণ করে ১৭৮২ সালে রাজা প্রথম রামা এই মুকুট সংযোজন করেন। স্বর্ণ ও হীরা দিয়ে রামার ওই সজ্জিত মুকুটের ওজন ছিল ৭.৩ কেজি।