শেষ পাতা

সরকারি কেনাকাটায় কর্তৃপক্ষ গঠন হচ্ছে

জেসমিন মলি | ০১:০৬:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কর্তৃপক্ষ গঠন করছে সরকার। এজন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটকে (সিপিটিইউ) পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিতে (বিপিপিএ) রূপান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি নামে একটি আইনের খসড়াও এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এ খসড়া আইন নিয়ে ২৫ এপ্রিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় তদারকিতে কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা তদারক করতে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ফলে সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অপচয়ের অভিযোগ থাকলেও এতদিন তা দেখার কেউ ছিল না। নতুন আইনের আওতায় কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে এসব কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকার বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫০ হাজার কোটির বেশি। বর্তমানে সিপিটিইউ এসব কেনাকাটার তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।

নতুন আইনের অধীনে সিপিটিইউকে বিপিপিএতে রূপান্তর করা হচ্ছে। আইনের খসড়ায় কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারি তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, অংশগ্রহণকারীদের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব সৃষ্টির জন্য এ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

সরকারি কেনাকাটায় কোথাও আইন লঙ্ঘন বা অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা দেখা গেলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নথি তলব করতে পারবে। এছাড়া সরকারি কেনাকাটায় কোনো আইন ও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশোধন করে ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন বা সংশোধনের পরামর্শ ও সুপারিশ কিংবা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারবে বিপিপিএ।

খসড়া আইন অনুযায়ী, বিপিপিএর একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন পরিকল্পনামন্ত্রী। কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান থাকবেন, যিনি সরকারের গ্রেড-১ভুক্ত বা সচিব মর্যাদার হবেন। এ কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর প্রতিপালন নিয়ন্ত্রণ, পরিবীক্ষণ, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করবে।

বিপিপিএ গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সিপিটিইউ বিলুপ্ত হবে উল্লেখ করে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সিপিটিইউর ক্ষমতা, কার্যাবলি ও যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিপিপিএর কাছে ন্যস্ত করা হবে। এছাড়া সিপিটিইউতে কর্মরত প্রত্যেকে এ আইন কার্যকর হওয়ার দিন থেকে সরকারি চাকরির সব সুবিধাসহ বিপিপিএর কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি কেনাকাটার পরিমাণ বৃদ্ধি ও অপচয়-দুর্নীতি রোধে পৃথক একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য গত বছরের নভেম্বরে তত্কালীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে চিঠি দেন তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, সরকারি কেনাকাটায় শৃঙ্খলার স্বার্থে একটি নির্দিষ্ট বিভাগ থেকে সব ধরনের কেনাকাটা করা যেতে পারে। এতে কেনাকাটায় অনিয়ম দূর করাসহ সরকারি কেনাকাটায় দীর্ঘ সময় ব্যয়ও রোধ করা সম্ভব হবে। এর পর পরই বিপিপিএ গঠনের উদ্যোগ নেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।