প্রবাস, আন্তর্জাতিক খবর, , ,

বাংলাদেশী প্রত্যাক্ষদর্শীর বর্ণনায় প্যারিসের ক্যাথেড্রালের অগ্নিকাণ্ড

বণিক বার্তা অনলাইন | ১৩:৩৪:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

নটরডেম ক্যাথেড্রাল শুধু ফ্রান্সেরই না পৃথিবীর বৃহত্তম ও বহুল পরিচিত ক্যাথেড্রালের একটি, যার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৬৩ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১২৪০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। ফ্রেঞ্চ রাজতন্ত্রের সঙ্গে বিশাল এই গীর্জাটির সম্পর্ক সুগভীর। সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে রাজাদের রাজ্যাভিষেক হতো এখানেই। 

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে প্যারিসের ইতিহাসের স্মারক এই ভবনটি। এসময় খুব কাছাকাছি ছিলেন বাংলাদেশী যুবক সাদমান সাকিব জেসান। ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে জেসান বাংলাদেশের বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্যারিসে পাড়ি জমিয়েছেন খুব অল্পদিন হয়। এখনো প্যারিসের সৌন্দর্য সেভাবে আস্বাদন করেই উঠতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে সাক্ষী হলেন ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের।

তিনি বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। পাঠকদের জন্য তার বর্ণনা তুলে ধরা হল-

আমি প্যারিসে এসেছি খুব বেশিদিন হয়নি। আসার আগে ইন্টারনেট ঘেঁটে এখানকার খোঁজখবর নিতে গিয়ে প্রথম জেনেছিলাম এই ঐতিহ্যবাহী গীর্জাটির কথা। ১১৬০ সালে নটরডেম গীর্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গথিক স্ট্রাকচারে তৈরি, নটরডেম মূলত অন্যান্য চার্চ থেকে তার ভিন্নতা ও  নতুনত্বে ভরা নির্মাণরীতির জন্য বিখ্যাত, বিশেষ করে গথিক কাঠামোতে বাইরে থেকে সাপোর্ট দেয়া প্রবৃদ্ধি আর বেলফ্রাইগুলো।

[শুরুর দিকের আগুন, ছবি: সংগ্রহ]

প্যারিসে যারা আসেন, এক নজর হলেও চোখ বুলিয়ে যান গীর্জাটির অনন্য সৌন্দর্য। প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি পর্যটক এই স্থাপত্য দেখতে আসেন। এই নটরডেম গীর্জা পূর্ব পাশের টাওয়ার থেকে দেখা যায় প্যারিস নগরী আর সেঁইনে নদী। দূরে দেখা যায় আইফেল টাওয়ার, ফ্রেঞ্চ স্থাপত্যের বাড়িঘর।

সেন্ট নিকোলাস চার্চ এর মতো বিশালত্ব এখানে হয়তো নেই। কিন্তু একসময় ফ্রেঞ্চ রাষ্ট্র কাঠামো আর্চবিশপ অভ প্যারিসকেই মুখ্য করে প্রাধান্য দিতো, ভ্যাটিকানের প্রভাব কমানোর জন্য। নটরডেম তাই ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর অনেক ঘটন-অঘটন-পরিবর্তনের সাক্ষী।

নটরডেমের জানালাগুলো ছিল কারু কার্যময়। বিভিন্ন সন্তদের ছবি আর নানা কাহিনী খোদিত আছে জানালাগুলোতে। সূর্যের আলো যখন জানালার ফাঁক গলে গীর্জায় প্রবেশ করতো, তখন দেখা মিলতো অনন্য এক স্বর্গীয় দৃশ্যের। অলঙ্কৃত করা জানালাগুলো লম্বা। ভ্যাটিক্যান, প্রাগ, রোম, বন ও বার্লিনে’র আরো কিছু চার্চ এ গিয়েছিলাম। সেগুলো ছিল ষোড়শ শতাব্দীর। সেগুলোতেও প্রায় একই ধরনের জানালা চোখে পড়ে।