শেষ পাতা

চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ অননুমোদিত ক্যাম্পাস

সাইফ সুজন | ০২:১১:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে দেশের বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি রাজধানীর চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি অননুমোদিত ক্যাম্পাস চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এর মধ্যে শান্তা-মারিয়ামের নয়টি, উত্তরা ইউনিভার্সিটির আটটি, ড্যাফোডিলের তিনটি ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির তিনটি অননুমোদিত ক্যাম্পাস রয়েছে।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পরিচালিত বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস বা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্যাম্পাস বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন সময় নির্দেশনাও দিয়েছে ইউজিসি। সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস নিয়ে অনুসন্ধান চালায় ইউজিসি। অনুসন্ধানে চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি অননুমোদিত ক্যাম্পাসের তথ্য উঠে আসে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১৩ ধারার (১) উপধারায় অনুমোদিত ক্যাম্পাস বিষয়ে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার জন্য দেয়া সাময়িক অনুমতিপত্রে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে শহর কিংবা স্থানে অনুমোদিত ক্যাম্পাস স্থাপন ও পরিচালনা করা হবে; তার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

আইনের উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে, উপধারা (১)-এর অধীনে উল্লিখিত শহর বা স্থানে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস সীমিত রাখতে হবে। অন্য কোনো স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা বা কোনো ক্যাম্পাস অথবা শাখা স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।

অন্য এক উপধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাসের স্থানে বা শহরে শর্তসাপেক্ষে অনুষদ বা ইনস্টিটিউট পরিচালনার আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা ইউজিসি পরিদর্শনসাপেক্ষে অনুমোদন দেবে। যদিও কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ইউজিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হয় ১৯৯২ সালের আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছিল না। এ সুযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত স্থানের বাইরে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করে এসেছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এ এর লাগাম টানতে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ আইনে প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু সে আইনে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি, তাই তারা সম্প্রসারিত ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

ইউজিসির তালিকা অনুযায়ী, উল্লিখিত চার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অননুমোদিত সম্প্রসারিত ভবন বা ক্যাম্পাস রয়েছে শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির। তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০টি ক্যাম্পাসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস। বাকি ক্যাম্পাসগুলো অনুমোদন না নিয়েই সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন না নেয়া ক্যাম্পাসগুলোর মধ্যে ছয়টিই উত্তরায়। এর মধ্যে ১৩ নম্বর সেক্টরেই তিনটি। এগুলো হলো ১ নম্বর সড়কের ১ নং বাড়ি, ১৭/এ সড়কের ১১ নং বাড়ি ও ১৪ নম্বর সড়কের ৬১ নং বাড়ি। এছাড়া ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নং সড়কের ১ নং বাড়ি, ১৫ নং সড়কের ২০ নং বাড়ি ও ১২ নম্বর সেক্টরের ১৭/এ ও ১৭/বি সড়কে অবস্থিত ক্যাম্পাস। বাকি তিনটি ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে ১৩, গরিবে নেওয়াজ এভিনিউ, প্লট ১৩৫, জিনজিরা সড়ক, সাভার ও ৫/৪, ব্লক-সি, লালমাটিয়া।

তালিকায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির অননুমোদিত সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস রয়েছে আটটি। এর মধ্যে সাতটিই উত্তরায় অবস্থিত। এগুলো হলো বাড়ি-০৪, সড়ক-১৫, সেক্টর-৬ (ইইই ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত), বাড়ি-০১, আলাওল এভিনিউ, সেক্টর-৬ (টেক্সটাইল ক্যাম্পাস), বাড়ি-১১, সড়ক-৭/ডি, সেক্টর-৯ (ফ্যাশন ডিজাইন ক্যাম্পাস), বাড়ি-০১, সড়ক-১২, সেক্টর-৬ (ল ক্যাম্পাস), এনজেড সেন্টার, সড়ক-২, সেক্টর-৬, বাড়ি-১০, রবীন্দ্রসরণি, সেক্টর-৭ (সিভিল বিল্ডিং) ও স্কুল অব বিজনেস হিসেবে পরিচিত ক্যাম্পাসটি রয়েছে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ১২ নং সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে। এর বাইরে মিরপুর হাউজিং এস্টেটে বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকটি অননুমোদিত সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস রয়েছে বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় নাম রয়েছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়েরও। আশুলিয়ায় দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুললেও বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানীর তিনটি ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এগুলো হলো মিরপুর সড়কের সোবহানবাগে অবস্থিত ড্যাফোডিল টাওয়ার, উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৭ নং সড়কের ৪ ও ৫ নং বাড়ি।

ইউজিসির ওই তালিকায় বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ক্যাম্পাসের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস। বাকি তিনটি অননুমোদিত সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস। এর সবই উত্তরা এলাকায় অবস্থিত। এগুলোর ঠিকানা হলো এসআর টাওয়ার, ১০৫, উত্তরা মডেল টাউন, সেক্টর-৭; হোসাইন টাওয়ার, ১০৩, সেক্টর-৭ ও আজিজ স্কয়ার, ৬৭/এ, রবীন্দ্রসরণি, সেক্টর-৭।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ১৯৯২-এর আইনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ই স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের সময়সীমা পার হয়েছে। এখন সব কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্থায়ী ক্যাম্পাসে। অস্থায়ী কোনো ক্যাম্পাস থাকারই কথা না। যদি তারা আইন মেনেই চলে, তাহলে তো সবার স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়ে যাওয়ার কথা। আমরা এর আগেও সবাইকে বলেছি, এখনো বলছি, আপনারা স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলে সেখানে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করুন।