শেষ পাতা

লাইফ সাপোর্টে সুবীর নন্দী

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০২:১১:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। বর্তমানে সেখানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। খবর বাসস।

গতকাল দুপুরে সুবীর নন্দীর ভাই শিল্পী তিমির নন্দী জানান, সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে রোববার রাতে ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন সুবীর নন্দী। ফেরার পথে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর রাতেই তাকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিল্পীকে ৭২ ঘণ্টার অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে রোববার রাতের তুলনায় গতকাল দুপুরে তার অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল।

সুবীর নন্দীর মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী সাংবাদিকদের জানান, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার সপরিবারে সিলেট গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। রাত ৯টার দিকে উত্তরার কাছাকাছি ট্রেন আসতেই হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেন থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

সুবীর নন্দীর ঘনিষ্ঠ স্বজন তৃপ্তি কর জানান, সিএমএইচের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর রাত ১১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হয় সুবীর নন্দীর।

ফাল্গুনী জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভুগছেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাকে। কিডনির জটিলতা ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি।

সুবীর নন্দীর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায়। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব কেটেছে চা বাগানে। পরিণত বয়সে গানের পাশাপাশি ব্যাংকেও চাকরি করেছেন তিনি। শৈশবে সংগীতে হাতেখড়ি মায়ের কাছে। শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। সিলেট বেতারে প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন তিনি। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে।