প্রথম পাতা

শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার : ভুটানের দাবি ১৬ পণ্যে ১০টিতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

নিজ নিজ বাজারে উভয় দেশের বেশকিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে একযোগে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভুটান ও বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের ১৬টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে ভুটান। অন্যদিকে ভুটানের বাজারে ১০টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের সফররত প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিং বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বৈঠক শেষে এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের ১৬টি পণ্যের বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

শহীদুল হক বলেন, দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনা খুবই ইতিবাচক হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হওয়ায় এগুলো কার্যকর হবে বলেও আশা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, আলোচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় প্রাধান্য পায়। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক এবং রেল যোগাযোগের বিষয়টি একটি বড় উদ্যোগ। যদিও সব দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু ভুটানের সংসদে এটি অনুসমর্থিত হয়নি। তবে ভুটানের নতুন সরকার বলেছে, এ উদ্যোগ সংক্রান্ত বিলটি তাদের সিনেটের উচ্চকক্ষে আলোচনার জন্য পুনরুত্থাপিত হবে এবং তারা এটি পাসের বিষয়ে আশাবাদী।

পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই: বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিংয়ের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন এবং ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে এসওপি সই করেছেন নৌ-পরিবহন সচিব আবদুস সামাদ ও ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ও ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিভাগের মধ্যে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন বিএআরসির নির্বাহী পরিচালক কবির ইকরামুল হক ও ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন বিপিএটিসির রেক্টর ড. এম আসলাম আলম ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।