দেশের খবর

শখ থেকে দক্ষ খামারি অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল আব্দুর রশীদ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি রংপুর | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

আট বছর আগে শখের বশে একটি ছাগল কিনেছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টেবল আব্দুর রশীদ (৬০)। এরপর আর থেমে থাকেননি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই হয়ে উঠেছেন দক্ষ খামারি। তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে এখন ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ৪৩টি ছাগল রয়েছে। আর এ পর্যন্ত ছাগল বিক্রি করেছেন অন্তত ৫ লাখ টাকার।

আব্দুর রশীদ জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবসর নিয়েছেন। সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন রংপুরের নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে। অধিকাংশ সময়ই তার দায়িত্ব থাকত রাতে মহাসড়কে। দিনে তার তেমন কোনো কাজ থাকত না। ফলে অবসর সময়ে পালনের জন্য শখ করে ২০১১ সালে ৭০০ টাকা দিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের একটি ছাগলের বাচ্চা কেনেন। চাকরির পাশাপাশি দিনের বেলায় ছাগলের পরিচর্যা পরিণত হয় নিয়মে। দিন দিন বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা। সহযোগিতায় এগিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরাও। বর্তমানে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার রাধাবল্লভ পাড়ায় ভাড়া বাড়িতে তার খামারে ৪৩টি ছাগল রয়েছে।

রাধাবল্লভ এলাকায় ডায়াবেটিক সমিতির মাঠে ছাগল চরানোর সময় তিনি বলেন, প্রথমদিকে ছাগল পালন তার কাছে পুরোপুরি শখ ছিল। তবে দিন দিন তিনি এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করা শুরু করেন। এরপরই খামার তৈরির বিষয়ে তিনি মনোযোগী হন। একটু যত্ন নিলেই ছাগল পালন থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। এক মাস আগেই তিনি চারটি খাসি ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ছয় মাস বয়সেই ছাগল বিক্রির উপযোগী হয়। তবে সবসময় ছাগলের রোগ-বালাইয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হলে তেমন আর কোনো সমস্যা হয় না। সময়মতো ওষুধ খাওয়ালেই সাধারণত রোগ ভালো হয়ে যায়।

ছাগল পালনে খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন তার খামারে প্রায় আট কেজি গমের ভুসি লাগে। ৩৭ কেজির এক বস্তা ভুসি কিনতে ১ হাজার ১০০ টাকার মতো লাগে। তবে খোলা মাঠে ছেড়ে পালন করা গেলে খরচ অনেক কম হতো।

গত কয়েক বছরে আব্দুর রশীদের বেশকিছু ছাগল চুরি হয়েছে। অনেকগুলো মারাও গেছে। কিন্তু তার পরও তিনি ধৈর্য হারাননি। কারণ অভাব-অনটনের সময় ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে সহজে পরিত্রাণ পেয়েছেন। কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। ফলে যতদিন সুস্থ আছেন, ততদিন ছাগল পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।