দেশের খবর

পাবনায় পরিবেশ ছাড়পত্রহীন ডায়িং কারখানা থেকে দূষণ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি পাবনা | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

পাবনার সুজানগরের কাচুরিয়া গ্রামে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়েই সুতা প্রক্রিয়াজাতের দুটি কারখানা পরিচালনা করছেন এক ব্যক্তি। এর মধ্যে একটি আবাসিক এলাকায় এবং অন্যটি গড়ে তুলেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমিতে। কারখানা দুটি থেকে প্রতিনিয়ত মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত পানি নির্গত হচ্ছে, যা জমা হয়ে দূষিত হচ্ছে আশপাশের এলাকা, উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি।

জানা গেছে, পাঁচ বছর ধরে কারখানা দুটি পরিচালনা করছেন কাচুরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদ খানের ছেলে শাহীন হোসেন খান। ভাগ্নে প্রসেসিং অ্যান্ড ডায়িং নামে এ দুই কারখানার একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। স্থানীয়দের নিষেধ-অনুরোধ উপেক্ষা করেই এর একটি গড়ে তুলেছেন আবাসিক এলাকায়। অন্যটি গড়ে তোলা হয়েছে মাছ চাষের জন্য লিজ নেয়া পাউবোর জমিতে। কারখানা দুটির কারণে কাচুরিয়াবাসীকে এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখানে এ ধরনের কারখানা নির্মাণের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। প্রতিদিন সুতা রঙ করার রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। পাউবোর স্থানীয় ক্যানেলে জমা হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত পানি, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। দূষণের শিকার হচ্ছে গ্রামের শতাধিক পরিবার। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা পাবনা জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী পাউবো, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিকের গন্ধে এখন বাড়িতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টাই তারা কেমিক্যালের মধ্যে বসবাস করছেন বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া জমে থাকা পচা পানিতে দিন দিন বাড়ছে মশার উপদ্রব। অথচ এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকিও।

এদিকে বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষিজমির পাশে কারখানাটির কারণে আশপাশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাসায়নিকের কারণে এরই মধ্যে ৪০ বিঘা জমি আবাদযোগ্যতা হারিয়েছে। বিল্লাল সেখ নামে এক কৃষক বলেন, প্রতিদিন কারখানার বিষাক্ত পানি আমার ইরি ক্ষেতে প্রবেশ করছে। বর্তমানে এ ক্ষেতে আর কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। পাশের একটি পেঁয়াজ ক্ষেতেরও একই অবস্থা। কারখানাটি এখনই অপসারণ না করা গেলে ধীরে ধীরে আরো অনেকের জমি নষ্ট হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শামীম হোসেন বলেন, ওই দুই কারখানার কারণে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি আমি জানি। আমার কাছে এলাকার মানুষ এ নিয়ে বহুবার অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষমতা সীমিত। তাই আমি তাদের জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিতে বলেছি।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক শাহীন হোসেন খান বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে কারখানা চালাচ্ছি। এতে সমস্যার কিছু নেই। তাছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালনায় সরকারি অনুমোদন লাগে বলে জানতাম না। মাছ চাষের জন্য পাউবোর একটি জমি লিজ নেয়া আছে। সেখানে একটি কারখানা করেছি। প্রয়োজন হলে সেটির জন্য পরিবেশ ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন জোগাড় করব। তার দাবি, কারখানার জন্য স্থানীয়দের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে শত্রুতাবশত অভিযোগ করা হয়েছে।

পাবনা জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সুজানগর সাতবাড়িয়া এলাকার কাচুরিয়া গ্রামে অবৈধ কারখানার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।