টকিজ

ভাঙছে গেম অব থ্রোনসের মেলা

ফিচার ডেস্ক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বেলফাস্টে গেম অব থ্রোনসের চূড়ান্ত সিজনের প্রিমিয়ার হয়ে গেল। গত শুক্রবার ওয়াটার ফ্রন্ট হলে হাজারো অতিথির মধ্যে প্রযোজক শেষ সিজনকে উল্লেখ করলেন তাদের: ‘ঘরেফেরা’ বলে।

এ প্রযোজকের মতো অনুভূতি এ চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও, ‘এটা বর্ণনা করা কঠিন, এ জায়গা ঘিরে আমার এত আবেগ’—বলেন জন স্নোর ভূমিকায় অভিনয় করা কিট হ্যারিংটন, ‘আমার ২০ পরবর্তী জীবনের বেশির ভাগ সময় এখানে কেটেছে, এখানে আমি কজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু পেয়েছি, এখানে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে (ইগরিত্তির ভূমিকায় অভিনয় করা রোজ লেসলি তার স্ত্রী)। এখানকার সময়কে ঘিরে আমার আবেগকে গুরুত্ব না দেয়াটা অন্যায় হবে।’

ওয়েস্টরোসের সাত রাজ্যের লড়াই নিয়ে তৈরি এ ছবির কাহিনী নেয়া হয়েছে জর্জ আরআর মার্টিনের ফ্যান্টাসি উপন্যাস থেকে। গত আট বছরে গেম অব থ্রোনস রীতিমতো বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

গেম অব থ্রোনস হলো, অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া টিভি চলচ্চিত্র এবং এর আগে কোনো ছবিকে ঘিরে কখনই এমন নিরপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়নি। গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানে ঢোকার আগে অতিথিদের অঙ্গীকারনামায় সই করিয়ে নেয়া হয়েছে, তারা কাহিনীর কোনো সূত্রই বাইরে প্রকাশ করতে পারবেন না। ফোন এবং সব রকম রেকর্ডিং সরঞ্জাম ব্যতিরেকে তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়েছে।

‘এ চলচ্চিত্র ঘিরে কী পরমািণ গোপনীয়তা, সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছে, পেছন ফিরে দেখে বিস্ময় লাগছে’—বলেন জো ডেমপাইস। এ ছবিতে তিনি কামার হেনড্রির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ‘গেম অব থ্রোনসে কাগজের কোনো ব্যাপার নেই। কাগজের স্ক্রিপ্ট বলে কিছু নেই। সবকিছু ইলেকট্রনিক। সবকিছু অতি গোপন। সবকিছু তালাবদ্ধ।’

গেম অব থ্রোনস পরিণত হয়েছে পপকালচারের বিস্ময়কর এক উপাদানে। এ ছবির পাড় দর্শক বারাক ওবামা, সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। তিনি একবার গেম অব থ্রোনসের কিছু পর্ব আগাম দেখতে পাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, তার অনুরোধ রক্ষা করা হয়েছিল। গেম অব থ্রোনসের ভক্ত র্যাপার জে জে, একবার স্ত্রী বিয়ন্সের জন্য তিনি ড্রাগন কুইন ডায়েনারির ডিম কিনেছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অশালীনভাবে টুইটবার্তায় ব্যবহার করেছিলেন গেম অব থ্রোনসের এক ট্রেডমার্ক সংলাপ: ‘অবরোধ আসছে।’ তীব্র সমালোচনার মুখে প্রযোজনা সংস্থা এইচবিও পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করে: ‘কারো আমাদের ট্রেডমার্ক-সংলাপ ভুলভাবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাকে নিন্দা জানাই।’

গেম অব থ্রোনস ছবির কল্যাণে ফুলেফেঁপে উঠেছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের পর্যটন ব্যবসা। ঐতিহাসিকভাবে আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল বলে পরিচিতি। গেম অব থ্রোনসের কল্যাণে ৯০০ পূর্ণকালীন আর ছয় হাজার খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ মহাযজ্ঞ ভাঙল অবশেষে। এখন টিভির সামনে দর্শকদের অপেক্ষার পালা।

 

সূত্র: গার্ডিয়ান