আপন অঙ্গন

জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি সুজুকি আল্টো এলএক্সআই

এসএম আলাউদ্দিন আল আজাদ | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

গণপরিবহন বা রিকশায় চড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতের খরচ নেহাত কম নয়! যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি হয়, তাহলে খরচের হিসাবটা আরো বাড়ে। নিজের গাড়ি হলেও জ্বালানি খরচসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক মিলিয়ে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ন্যূনতম ১০-১২ টাকা। ছোট একটি গাড়ি। চারজন যাত্রী নিয়ে অনায়াসে চলতে পারে। এমন গাড়িতে যদি প্রতি কিলোমিটার যেতে মাত্র ৬ টাকা খরচ হয়, তাহলে যাতায়াতের জন্য সে গাড়িকে পছন্দ করাই যায়। অটোমোবাইল বাজারে সুজুকির রয়েছে ৮০০ সিসির এমনই একটি গাড়ি, যা জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং শহরে চলাচলের জন্য বেশ পছন্দনীয়।

গাড়িটির মডেল সুজুকি আল্টো এলএক্সআই। সাধারণ ঘরানার এ গাড়িতে ৩ সিলিন্ডার বিশিষ্ট ১২ ভাল্বের এফএইটডি, এমপিএফআই পেট্রল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৫০০ আরপিএমে গাড়িটির অশ্বশক্তি ৪৮ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৬৯ নিউটন মিটার (এনএম)। আকারে ছোট হলেও আল্টোর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। স্বয়ংক্রিয় গিয়ার পরিবর্তন সময়ের দাবি হলেও গাড়িটিতে ৫ গতির ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স রয়েছে।

সুজুকি আল্টোর ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৮৩ সালে প্রথম মারুতি সুজুকি গাড়িটি ভারতে উৎপাদন করে। ৩৬ বছরের এ যাত্রায় আল্টো ভারতের বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রীত গাড়ির উপাধি অর্জন করে। ২০০০ সালে আল্টো দেশের বাজারে আসে। চলতি বছর পর্যন্ত এ মডেলের গাড়িটি ২১০০-এর বেশি বিক্রি হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশেও গাড়িটি স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া গাড়িগুলোর অন্যতম।

যেকোনো ব্যস্ত রাস্তায় গাড়িটি সহজে ঘোরানো যাবে। ৪ দশমিক ৫ মিটার টার্নিং রেডিয়াসের আল্টোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৩ হাজার ৪৩০, ১ হাজার ৪৯৫ ও ১ হাজার ৪৭৫ মিলিমিটার। ১৬০ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সে গাড়িটি সহজে যেকোনো অসমতল পথ বা গতিরোধক টপকাতে পারবে। ৩৫ লিটার জ্বালানি ধারণক্ষমতার গাড়িটি প্রতি লিটারে শহরে ১৭-১৮ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। গাড়িটির মোট ওজন ১ হাজার ১৮৫ কেজি।

দেশের বাজারে সুজুকি আল্টোর একমাত্র পরিবেশক উত্তরা মোটরস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ সাকিব উস সালেহীন বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে সুজুকি আল্টো তুলনাহীন। এত কম মূল্যে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি সুজুকি ছাড়া আর কোনো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেই। গাড়িটির আকার ও মাইলেজকে গুরুত্ব দিয়ে ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়রকে সাজানো হয়েছে। আধুনিক অনেক সুযোগ-সুবিধা এ গাড়িতে অনুপস্থিত থাকলেও বেসিক গাড়ি হিসেবে আল্টো ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে। শীতে হিটার এবং গরমে এয়ার কন্ডিশন সুবিধাসহ সিএনজির চেয়েও কম মূল্যে আমরা গাড়িটি বিক্রি করছি।

পাওয়ার স্টিয়ারিং সমৃদ্ধ সুজুকি আল্টোতে রয়েছে ইলেকট্রনিক ট্রিপ মিটার, বডি কালার বাম্পার, কাপ হোল্ডার, চুরির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অ্যান্টি থেফট সিস্টেম এবং লাগেজ ট্রে। সামনের দুই চাকায় সলিড ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িতে চাবি ফেলে এলে সতর্কীকরণের জন্য কি লেফট রিমাইন্ডার অ্যালার্ম রয়েছে। মালপত্র বহন করার জন্য গাড়ির পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।

২০০৬ থেকে সুজুকি আল্টো ব্যবহার করছেন বিমান বাংলাদেশের মার্কেটিং সেলস ম্যানেজার কামরুল হক। তিনি বলেন, ছোট পরিবারের জন্য সুজুকি আল্টো একটি আকর্ষণীয় গাড়ি। এছাড়া গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক কম। সহজেই পার্ক করা যায়। ১৩ বছর ধরে আমি এ গাড়ি ব্যবহার করছি। তবে গাড়িটির হেডরুম আরেকটু প্রশস্ত হলে ভালো হতো।

ছোট এই গাড়ির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এতে মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ার, রিয়ার ক্যামেরা অথবা পার্কিং সেন্সর নেই। টিউবলেস টায়ারের চাকা হলেও চাকার আকার গাড়ির তুলনায় ছোটই বলতে হয়। পেছনের দরজায় জানালার গ্লাস খোলার জন্য স্বয়ংক্রিয় কোনো সুইচ নেই।

মাত্র ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্টে গাড়িটি কেনা যাবে। প্রতিদিন মাত্র ৬৫০ টাকা অথবা মাসিক ১৯ হাজার ৭৫২ টাকা কিস্তিতে গাড়িটির মূল্য পরিশোধ করা যাবে। সুজুকি আল্টোর মূল্য ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সারা দেশে উত্তরা মোটরসের ১০টি বিক্রয়কেন্দ্র এবং ১৫টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। গাড়িটিতে এক বছর বা ১৫ হাজার কিলোমিটার (যেটা আগে আসে) পর্যন্ত মোট চারটি বিনা মূল্যে বিক্রয়োত্তর সেবা মিলবে।