পণ্যবাজার

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে চীনাবাদাম

বণিক বার্তা প্রতিনিধি হিলি | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

দেশের চরাঞ্চলে চীনাবাদাম উৎপাদন হয়। তবে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় পণ্যটির নিজস্ব উৎপাদন অপ্রতুল। এ কারণে বিদেশ থেকে আমদানি করা চীনাবাদাম দিয়ে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে চীনাবাদাম আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি করা এসব চীনাবাদাম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় পেঁয়াজ। এছাড়া চাল, সবজিসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য আমদানি করেন হিলির আমদানিকারকরা। এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে চীনাবাদাম। স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা চীনাবাদামের প্রথম চালানটি দেশে প্রবেশ করে। মার্চজুড়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশের বাজারে ৬৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৫৪৫ টন চীনাবাদাম আমদানি হয়েছে।

এ বিষয়ে পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে দেশে চীনাবাদাম আমদানি হচ্ছে। চীনাবাদাম নিয়ে প্রতিদিন একটি বা দুটি ট্রাক দেশে ঢুকছে। পরবর্তীতে পণ্য খালাসের জন্য নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমদানি করা এসব চীনাবাদাম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় বাড়ছে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় হিলিতে বাড়তি দামে চীনাবাদাম বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী অনুপ বসাক বণিক বার্তাকে বলেন, নীলফামারীর ডোমার ও আশপাশের এলাকা থেকে সরবরাহ করা চীনাবাদাম হিলির বাজারে বিক্রি করা হয়। কিছুদিন ধরেই দেশে উৎপাদিত চীনাবাদামের সরবরাহ অনেকটাই কমে এসেছে। চাহিদা অনুযায়ী চীনাবাদাম সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে সরবরাহ সংকট থেকে বেড়ে গেছে চীনাবাদামের দাম।

তিনি জানান, অন্যান্য সময়ে হিলির বাজারে প্রতি কেজি দেশে উৎপাদিত চীনাবাদাম ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে সরবরাহ সংকটের জের ধরে বর্তমানে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর এ কারণে দেশীয় আমদানিকারকরা ভারত থেকে চীনাবাদাম আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী বাকি হোসেন জানান, হিলির বাজারে বর্তমানে দেশে উৎপাদিত প্রতি কেজি খোসাসহ চীনাবাদাম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোসা ছাড়া বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি করা চীনাবাদাম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১৫-১২০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে উৎপাদিত নতুন মৌসুমের চীনাবাদাম বাজারে আসতে শুরু করবে। ওই সময় পণ্যটির দামও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন  ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে দেশে উৎপাদিত চীনাবাদামের সরবরাহ বাড়লে আমদানি করা পণ্যটির চাহিদাও কমে আসতে পারে।

বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপকালে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশীদ বলেন, চলতি মৌসুমে দেশে চীনাবাদাম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বৃষ্টি বেশি হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে ব্যাহত হয়েছে পণ্যটির উৎপাদন। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ায় হিলির কিছু আমদানিকারক ভারত থেকে চীনাবাদাম আমদানি করতে শুরু করেছেন। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো আমদানি করা চীনাবাদামের চালান দেশে ঢুুকেছে। এতে ভালো ফলও পেয়েছেন তারা। চাহিদা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোয় ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি বর্তমানের তুলনায় বাড়তে পারে। তবে দেশে উৎপাদিত নতুন মৌসুমের চীনাবাদাম বাজারে এলে পণ্যটির দাম কমে যেতে পারে।