আন্তর্জাতিক খবর

যুক্তরাষ্ট্রকে আলটিমেটাম উত্তর কোরিয়ার কিমের : ‘যথাযথ আচরণ’ দেখালেই কেবল বৈঠক হতে পারে

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উন বলেছেন, যথাযথ আচরণ দেখালেই কেবল তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএতে কিমের এ বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

কেসিএনএর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকের বিষয়ে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেয়া ভাষণে কিম জং বলেন, ‘দরকষাকষির বর্তমান কৌশল ত্যাগ করে আমাদের সামনে নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে হাজির হওয়া আবশ্যক যুক্তরাষ্ট্রের।’

ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে আরো বৈঠকের সম্ভাবনা আছে মন্তব্য করার একদিন পরই কিমের এ বক্তব্য আসে।

গত বছর সিঙ্গাপুরে প্রথমবার মিলিত হয়েছিলেন কিম ও ট্রাম্প। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুজনের দ্বিতীয় বৈঠকটি কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধে ভেস্তে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলো অপসারণের বদলে উত্তর কোরিয়া তাদের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার দাবি করায় কিমের সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বলে সে সময় দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।

পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটনের এ ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে বলে, সব নয়, তাদের দাবি ছিল কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের।

গত মাসে উত্তর কোরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চু সুন-হুই ভিয়েতনাম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘গ্যাংস্টারসুলভ’ ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন। হ্যানয়ে ওয়াশিংটন সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

হ্যানয় বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক কিনা, সে বিষয়ে তার ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে।

শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাবারস্ট্যাম্প সংসদে কিম বলেন, উভয় পক্ষ মেনে নিতে পারে, এমন শর্ত ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তৃতীয় কোনো সম্মেলনের প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তাদের আরেকটি সুযোগ দিতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে বশে আনা যাবে, এমনটা ভেবে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ভুল করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক’ মধ্যস্থতার ধরন বদলাতেও আহ্বান জানিয়েছেন কিম। ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের টানাপড়েন চললেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ‘চমত্কার’ রয়েছে বলে জানান কিম।

নতুন কোনো সম্মেলনের প্রস্তাবনা দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় দেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এর মধ্যেই ওয়াশিংটন নতুন পরিকল্পনা হাজিরের ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নেবে বলে আশা করেন কিম।