আন্তর্জাতিক ব্যবসা

মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের হুমকি : প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হলেন মার্কিন ও মেক্সিকোর ব্যবসায়ী নেতারা

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত শুক্রবার মেক্সিকোতে জড়ো হন দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। হুমকির প্রতিবাদ করার পাশাপাশি ইস্পাতের ওপর মার্কিন শুল্ক প্রত্যাহারেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ইস্পাতের ওপর শুল্কারোপের কারণে গত বছর দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের শহর মেরিদায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাতেই গত শুক্রবার জড়ো হয়েছিলেন দুই দেশের কর্মকর্তা ও ব্যবসায় লবিস্টরা।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের প্রধান টম ডনোহিউ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কারোপ থেকে মেক্সিকো ও কানাডাকে অব্যাহতি দেয়া। গত বছরের জুনে এ শুল্কারোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট পরিবর্তনের চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদনের আগেই দেশ দুটিকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদরের পাশেই বসেছিলেন মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ডনোহিউ। তিনি বলেন, ‘আমরাই সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করছি।’ ডনোহিউর বক্তব্যকে করতালির মাধ্যমে সমর্থন দেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ওব্রাদর।

মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি বাজার এবং তৃতীয় বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের অর্থমূল্য প্রায় অর্ধট্রিলিয়ন ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা এগ্রিমেন্ট (ইউএসএমসিএ) নামে একটি চুক্তির বিষয়ে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকো চাইছে মার্কিন আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদন করার আগেই যেন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।

সীমান্ত উত্তেজনার কারণে শুল্ক বাতিলের এ প্রক্রিয়া আরো বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, যদি মেক্সিকো অবিলম্বে তাদের অবৈধ অভিবাসন বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসা শরণার্থীদের ঢল থামাতেই এ হুমকি দেন ট্রাম্প। মধ্য আমেরিকা থেকে আসা এসব শরণার্থীর বেশির ভাগই মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে প্রবেশ করে। ট্রাম্পের হুমকির পর তার সরকার সীমান্তে আবারো বর্ডার এজেন্ট মোতায়েন করেছে। সীমান্তে উত্তেজনার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

ডনোহিউর পর বক্তব্য প্রদান করেন মেক্সিকোর শক্তিশালী সিসিই বিজনেস লবির প্রেসিডেন্ট কার্লোস সালাজার। সালাজার বলেন, তিনি আশাবাদী যে মার্কিন সরকার সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন অভিবাসী সমস্যাকে বাণিজ্য সমস্যা ও শিল্প সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলি।’

কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করা থেকে বিরত রয়েছেন ওব্রাদর। মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য, অভিবাসন ও নিরাপত্তাবিষয়ক চুক্তির সুযোগ উন্মুক্ত রাখায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

কার্লোস সালাজারের পাশেই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। সম্মেলনের পাশাপাশি উইলবার রসের সঙ্গে বৈঠক করেন মেক্সিকোর অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী গ্র্যাসিলা মার্কেজ। তিনি শুল্ক বাতিল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবারো আহ্বান জানান। এছাড়া মার্কিন ও মেক্সিকান উৎপাদকদের মধ্যকার টমেটো বিতর্কের অবসানে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছতে আলোচনার আহ্বান জানান মার্কেজ।

মেক্সিকোর জ্বালানিমন্ত্রী রসিও নাহলের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের উপজ্বালানিমন্ত্রী ড্যান ব্রুইলেট। ব্রুইলেটকে রোসিও নাহলে বলেন, পূর্ববর্তী সরকার জ্বালানি খাতকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, তা থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে না তার সরকার।

লোপেজ ওব্রাদর মেক্সিকোর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিমেক্সকে পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন এবং তাবাস্কো প্রদেশে ৮০০ কোটি ডলারের একটি রিফাইনারি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মেক্সিকোর কর্মকর্তারা আশা করছেন কর ফাঁকি কমিয়ে আনার মাধ্যমে তারা এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারবেন।