আন্তর্জাতিক ব্যবসা

লেনদেনের প্রথম দিনেই রেকর্ড গড়ল ‘আফ্রিকার অ্যামাজন’ জুমিয়া

শেয়ারদর বেড়েছে ৭৫%

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের প্রথম দিনেই শেয়ারদর ৭৫ শতাংশ বেড়েছে আফ্রিকার বৃহত্তম ই-কমার্স অপারেটর জুমিয়া টেকনোলজিসের। শুক্রবার ১৪ দশমিক ৫০ ডলার দরে লেনদেন শুরু হলেও দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে ২৫ দশমিক ৪৬ ডলারে। কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ডলার। খবর সিএনবিসি।

২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আফ্রিকাজুড়ে জুমিয়ার সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৪০ লাখ। ঘানা, কেনিয়া, আইভরি কোস্ট, মরক্কো ও মিসরসহ আফ্রিকার ১৪টি দেশে কাজ করছে ‘আফ্রিকার অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত জুমিয়া।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত জুমিয়া প্রথম আফ্রিকান ইউনিকর্ন হিসেবে শেয়ারবাজারে পাবলিক কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। শতকোটি ডলারের বেশি মূল্যের কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে সাধারণত ‘ইউনিকর্ন’ অভিধা দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কোম্পানিটির সমন্বিত লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। অ্যামাজনের মতোই লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে আরো অপেক্ষা করতে হবে জুমিয়ার প্রথম দিককার শেয়ারহোল্ডারদের।

জুমিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এখানে গ্রাহকরা স্মার্টফোন, জুতা কিংবা  গ্রোসারি পণ্য ক্রয় করতে পারে। ভ্রমণ ও হোটেল বুকিংয়ের মতো সেবা দিয়ে থাকে এর লজিস্টিকস বিভাগ। ফাস্ট-পে সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা পণ্য কেনাকাটা কিংবা পিত্জা অর্ডার করতে পারে।

আফ্রিকায় ই-কমার্সের সংকট নিয়ে জুমিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাচা পয়েগনোনেক সিএনবিসিকে বলেন, মহাদেশটির দুর্বল অবকাঠামোর জন্য সংকটে রয়েছেন বিক্রেতারা। তবে ইতিবাচক দিক নিয়ে তিনি বলেন, রিটেইল বাজারে প্রবেশের সুযোগবঞ্চিত ভোক্তাদের ব্যাপকভাবে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারে এ মাধ্যমটি।

আফ্রিকায় জুমিয়ার অনেক বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন পয়েগনোনেক; কারণ সেখানে অসংখ্য মানুষের অনলাইনে শপিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই।

কেন আফ্রিকায় অনলাইন শপিংয়ে এখনো বেশির ভাগ ভোক্তা অভ্যস্ত নয়, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলবে, ‘আমি তো জানি না কীভাবে অনলাইনে শপিং করে।’ পয়েগনোনেক এ সম্পর্কে বলেন, ভোক্তাদের এ দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্ট বিষয়টা স্রেফ অবকাঠামো-সংক্রান্ত নয়। ভোক্তারা কখন এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন, তার ওপর নির্ভর করছে।

জুমিয়ার প্রধান কার্যালয় জার্মানিতে অবস্থিত। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও লজিস্টিকস কোম্পানির সঙ্গে মিলে পণ্য সরবরাহ করে থাকে কোম্পানিটি। মূলত আফ্রিকার প্রধান শহরগুলোয়ই অর্ধেকের বেশি পণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে। আর বাকি অর্ধেক পণ্য যায় দ্বিতীয় সারির শহর ও গ্রামাঞ্চলে।

জুমিয়ার বৃহত্তম কয়েকটি গ্রাহকের মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, এইচপি ও হুয়াওয়ের মতো কোম্পানি।