আন্তর্জাতিক ব্যবসা

স্থিতিশীলতার আভাসেও ঝুঁকিমুক্ত নয় চীনের অর্থনীতি

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৩৯:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর মন্থর হয়ে প্রায় ৩০ বছরের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল রয়টার্সের এক মতামত জরিপে এমন পূর্বাভাস করা হয়েছে। একরাশ নীতিসহায়ক পদক্ষেপ সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মন্থর চাহিদা চীনের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে মার্চে চীনের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও সিনহুয়া।

সর্বশেষ রয়টার্স মতামত জরিপে চলতি বছরের জন্য চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানুয়ারিতে করা পূর্বাভাসের চেয়ে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হয়েছিল। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাস দেখা গেছে। তবে এ গতিশীলতা টেকসই হবে কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগই চলতি বছরের শেষার্ধের আগে প্রবৃদ্ধির আশা করছে না। অর্থনীতি ও স্থানীয় চাহিদা পুনরুজ্জীবিত করতে মুদ্রানীতি ও আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচির সময় লাগবে বলে এমনটা মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জাপানের আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নমুরার চীনবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ টিং লু বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চীনের রফতানি চাপের মুখে রয়েছে। এছাড়া দেশটির আবাসন বাজার নিম্নমুখী থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকেও অর্থনীতি মন্থর হবে বলে আমরা ধারণা করছি।

এদিকে পূর্ণ বছরের জন্য রয়টার্স মতামত জরিপের ৬ দশমিক ২ শতাংশ পূর্বাভাস চীন সরকারের ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও তা ২৯ বছরের মধ্যে চীনের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। এর আগের দুই বছর দেশটির প্রবৃদ্ধিতে টানা পতন দেখা গেছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছর চীনের প্রবৃদ্ধি আরো প্রশমিত হয়ে ৬ শতাংশে দাঁড়াবে বলে জরিপে পূর্বাভাস করা হয়েছে।

একদিকে ঋণঝুঁকি ও দূষণ হ্রাসে কয়েক বছরব্যাপী নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ চীনের নতুন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক বছর ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনা রফতানিকারকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সবকিছুই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রশমিত হয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে চলতি বছরের মার্চে চীনে কারখানা ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি বাড়াতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে বেইজিং। মন্থর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে চাহিদা দুর্বল হওয়ায় চীনের কারখানা ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতি উভয়ই নিচের দিকেই থাকছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, মার্চে খুচরা মূল্যস্ফীতির প্রধান পরিমাপক ভোক্তামূল্য সূচক (সিপিআই) বছরওয়ারি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই বেড়েছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

মূলত গরু ও ভেড়াসহ মাংসের মূল্য বাড়ায় দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া চীনে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু মহামারীর পর শূকরের মাংসের দাম পেয়েছে। আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর কারণে চীনে ১০ লাখের মতো শূকর নিধন করা হয়। তাজা ফল ও সবজির দামেও উল্লম্ফন দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, মার্চে স্থানীয় চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক উৎপাদক মূল্যসূচকও (পিপিআই) দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পিপিআই বেড়েছিল দশমিক ১ শতাংশ।

গত মাসে চীনের সিপিআই ও পিপিআই সম্প্রসারণ ব্লুমবার্গের একটি জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকলেও অর্থনীতিবিদরা এখনো পূর্বাভাস নিয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান ইভান্স-প্রিচার্ড বলেন, এখন পর্যন্ত চীনের মূল্যস্ফীতি ঘুরে দাঁড়ায়নি।

এদিকে মার্চের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথম প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গতকাল জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস (জিএসি) জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্য বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক শূন্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রফতানি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও আমদানি বেড়েছে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ।