টকিজ

কাশ্মীর এখন শুধু লোকেশন স্পট নয়...

ফিচার ডেস্ক | ১৯:২২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

কাশ্মীরে ছবির শুটিং মানে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপস্থাপনা। তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, কাশ্মীর এখন শুধু ক্যামেরার খোরাক নয়, কাশ্মীরের মানুষ এখন সরাসরি অভিনয়েও সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।

কাশ্মীরের লেক, পাহাড়, বাগান মুম্বাইয়ের পরিচালকদের বহু বছর ধরে আকর্ষণ করছে। কিন্তু এক্ষেত্রে উপত্যকার মানুষ পরিচালকদের কাছে ততটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি। কাশ্মীরে দৃশ্যায়িত সিনেমায় কাশ্মীরের মানুষ ব্যবহূত হয় সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে। আপেল কিংবা ফুলের বাগানে নেচেগেয়ে বেড়ান মুম্বাই থেকে যাওয়া তারকারা।

তবে পরিস্থিতি এখন বদলাচ্ছে, ধীরে হলেও। কাশ্মীরের অনেক শিল্পী এখন বড় পর্দায় নিয়মিত কাজ করছেন। তাদের চেহারাগুলো দর্শকদের কাছে পরিচিতও হয়ে উঠেছে। তারা তাদের চরিত্রগুলোর বিশেষত্বের কারণেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

বজরঙ্গি ভাইজান সিনেমার মাধ্যমে ২০১৫ সালে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল মীর সারওয়ারের। এ বছর তিনি অভিনয় করেছেন কেসরি ও হামিদ ছবিতে। বেশ ব্যস্ততায় কাটছে তার সময়। মীর সারওয়ার বজরঙ্গি ভাইজানে কাশ্মীরের কাশ্মীর অংশের সেই ছোট মেয়েটির বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। সারওয়ার বলেছেন, ‘রোজা কিংবা লামহার মতো কাশ্মীরকে ভিত্তি করে অনেক ছবি হয়েছে। কিন্তু আগে সাধারণত মুম্বাই থেকে কাউকে এনে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হতো। আমার মনে আছে, সে সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় পাঠান ছিল কিরণ কুমার আর এখন আমি।’ সারওয়ার মনে করেন, এই পরিবর্তন এখন বাস্তব ও দৃষ্টিগ্রাহ্য এবং এটা ছবিকে আরো বেশি প্রামাণ্য করে তোলে।

অনুরাগ সিংয়ের কেসরি সিনেমায় দেখানো হয়েছে ১৮৯৭ সালে অনুষ্ঠিত সারাগারহির লড়াই। ২১ জন শিখ ও আফগানের বিরাট এক সেনাদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই লড়াই সামরিক ইতিহাসে বিখ্যাত। ছবিতে আফগান চরিত্রগুলোয় অন্তত চারজন কাশ্মীরি অভিনেতা কাজ করেছেন। মীর সারওয়ারের পাশাপাশি আশবান্ত ভাটকে দেখা গেছে দ্য রিলাকটেন্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট (২০১২), হায়দার (২০১৪), রাজি (১০১৮) ও মান্টোতে (২০১৮)। কেসরিতে ভাট এক গোঁড়া মোল্লার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রাজি ছবিতে তাকে দেখা গেছে এক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার ভূমিকায়।

কাশ্মীরে কোনো সিনেমা হল নেই। নব্বইয়ের দশকে ইসলামী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উত্থান পর্বে বিলুপ্ত হয় সেখানকার সিনেমা হলগুলো। কাশ্মীরের সিনেমাপ্রেমী মানুষকে সিনেমা দেখতে জম্মু যেতে হয়। নয়তো পাইরেটেড ডিভিডিই তাদের ভরসা। তাই কাশ্মীরের শিল্পীদের ছবি প্রযোজনার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সারওয়ার বলেন, ‘কাশ্মীরের দর্শকরা আমাকে বলেছেন, তারা কেসরি দেখতে চান। কিন্তু হল না থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সারওয়ার অবশ্য ফাদার নামে একটি ছবি পরিচালনা করছেন। এর মাধ্যমে পরিচালনায় তার অভিষেক হচ্ছে। সারওয়ারের আশা, কয়েক মাসের মধ্যেই ছবিটি মুক্তি পাবে। ‘কাশ্মীরে অনেক অভিনয়শিল্পী আছেন। তবে তারা মূলত টেলিভিশন ও থিয়েটারের। তাই তাদের অভিনয়ের স্টাইল বদলে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

কাশ্মীরের অভিনেতাদের বলিউডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং এখানে শুটিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় প্রযোজক, লোকেশন স্কাউট ও অভিনয় প্রতিভা বিকশিত হতে শুরু করেছে। পরিচালক দানিশ রেঞ্জু বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। তিনি হাফ উইডো নামে একটি ছবি পরিচালনা করছেন। তার পরবর্তী ছবি পশমিনায় কাজ করবেন দাঙ্গালখ্যাত কাশ্মীরি অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম।

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯