শিল্প বাণিজ্য

৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে সিলেট হাই-টেক পার্কে

নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট | ২২:১২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১২, ২০১৯

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বৃহত্ হাই-টেক পার্ক ‘সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটি’র মৌলিক অবকাঠামোগত কাজ শেষ পর্যায়ে। ১৬৭ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা সিলেট হাই-টেক পার্ক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে জানিয়ে হাই-টেক পার্কের কর্মকর্তারা বলেন, এ পার্কে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

গতকাল সকালে চেম্বার কনফারেন্স হলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেট হাই-টেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

সেমিনারে প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম ও কল্যাণ কুমার সরকার।

প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার সরওয়ার বলেন, প্রকল্পটি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে বিনিয়োগের জন্য প্রকল্পটি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি জানান, ১৬৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে সাইট অফিস, প্রশাসনিক ভবন, আইসিটি বিজনেস সেন্টার, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কাজ চলছে। নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সেতু। গত ৫০ বছরের অবস্থা পর্যালোচনাক্রমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপন করা হচ্ছে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন। গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই আরো কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য ৩৬ লাখ ঘনফুট মাটির মধ্যে ৩১ লাখ ঘনফুট মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, পার্কে ৪০ বছর মেয়াদি প্লট ইজারা দেয়া হবে। প্রতি বর্গমিটার ভূমির ভাড়া হবে প্রতি বছর দেড় ডলার। এছাড়া ৩১ হাজার বর্গমিটার স্পেস বিনিয়োগকারীদের ভাড়া দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা ট্যাক্স হলিডেসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। ছাড়পত্রের জন্য কোনো দপ্তরে যেতে হবে না। ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ১৪৮টি সেবা দেয়া হবে। যত রকম সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন হবে, তা সরকারই করে দেবে। তবে কোম্পানি গঠনের পর তা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সিলেটে গড়ে তোলা হচ্ছে এ পার্ক। সরকার নিজ উদ্যোগে অবকাঠামো তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে উদ্যোক্তাদের অবহিত করা হয়েছে। লন্ডনে প্রবাসীরা সিলেট হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন সিরাজুল ইসলাম বাদশা, সিলেট চেম্বারের পরিচালক জিয়াউল হক, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শরফুদ্দিন, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী ও ট্রেড সিলেটের সিইও মো. ফখরুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম জীবন কৃষ্ণ রায়, সোনালী ব্যাংকের জিএম মো. আশরাফউল্লাহ, জনতা ব্যাংকের ডিজিএম সন্দীপ কুমার রায়, পরিচালক আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মুজিবুর রহমান মিন্টু, মাউন্ট এডোরা হসপিটালের এমডি প্রফেসর ড. কেএম আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সিলেট অফিসের প্রধান মধুসূদন চন্দ প্রমুখ।