আন্তর্জাতিক ব্যবসা

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী পরিবার

২১:১২:০০ মিনিট, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন, ফিন্যান্স ও অর্থনীতির জটিল বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে অতি ধনীদের খবরাখবর রাখা নিঃসন্দেহেই অনেক বেশি আকর্ষণীয়, হোক তা শ্রদ্ধা, ঈর্ষা বা ক্ষোভ থেকে। আরো নিশ্চিত করে বলা যায়, ধনী পরিবারগুলোর প্রতি আকর্ষণ আসলে একটি সংস্কৃতির প্রতিফলন, যেখানে সম্পদের মোহ রয়েছে এবং ধনীরা যেখানে তারকাখ্যাতি পান। শীর্ষ ব্যবসায়ীরা তারকাই বটে। হয়তো এটা ভেবে সাধারণ ব্যক্তিরা সান্ত্বনা পান যে প্রতিটি দৈত্যাকার করপোরেশনের পেছনে একজন জীবন্ত মানুষই রয়েছে, যেমন অ্যামাজন মানে বেজোস, ফেসবুক মানে জাকারবার্গ, ওয়ালমার্ট মানে দ্য ওয়ালটনস। অন্যদিকে সফল পারিবারিক ব্যবসার রয়েছে সর্বজনীন আবেদন। আমাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন হয়তো বিলিয়নেয়ার হতে পারি, কিন্তু আমাদের সবারই পরিবার রয়েছে। পারিবারিক ব্যবসা বলতেই আমরা অকৃত্রিমতা, ঐতিহ্য, বংশপরম্পরা, উত্তরাধিকার ও গুণগত মান বুঝি। আর সম্পদশালী পরিবার মানে এর সঙ্গে আরো রয়েছে আভিজাত্য, বিশেষ করে যদি সে সম্পদ বংশানুক্রমিক হয়ে থাকে। নিচে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ধনী পরিবারের একটি তালিকা দেয়া হলো, যারা ব্যবসার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। ২০১৮ সালের শেষ থেকে চলতি বছরের প্রথমদিকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে। আজকের আয়োজনে থাকছে পাঁচ পরিবারের তথ্য—

ওয়ালটন পরিবার (ওয়ালমার্ট ইনকরপোরেশন)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ১৫ হাজার ১৫০ থেকে ১৭ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী পরিবার দ্য ওয়ালটনস। এমনকি কিছু দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবার। চলতি বছরের হিসাব অনুসারে, পরিবারটির শীর্ষে রয়েছেন জিম ও অ্যালিস ওয়ালটন, যাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার এবং ফোর্বসের বার্ষিক বিলিয়নেয়ারের তালিকায় অবস্থান ১৬ ও ১৭তম। পরিবারটি খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি ওয়ালমার্টের মালিক। আরাকানসাস অঙ্গরাজ্যে ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটন ওয়ালমার্ট প্রতিষ্ঠা করেন, যা আয়ের দিক থেকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোম্পানি। জানুয়ারির তথ্য অনুসারে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৩৫৫ খুচরা দোকান রয়েছে কোম্পানিটির।

দ্য কোচ ব্রাদার্স (কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৯ হাজার ৯০০ থেকে ১২ হাজার কোটি ডলার

চার্লস ও ডেভিড কোচের বিশাল সম্পদ এসেছে তাদের পিতার প্রতিষ্ঠিত তেল ব্যবসা থেকে। কিন্তু জনসাধারণের কাছে তারা আরো বেশি পরিচিত রাজনীতিতে পদচারণা, রাজনৈতিক প্রার্থী ও উদারবাদী থিংক ট্যাংকগুলোকে অর্থায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের তহবিল প্রদান এবং নীতিমালার লবিংয়ের জন্য। দুই ভাইয়ের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬ হাজার কোটি ডলার এবং ফোর্বসের তালিকায় অবস্থান ১১তম।

মার্স পরিবার (মার্স)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৮ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার কোটি ডলার

ক্যান্ডি জগতের ওয়ালমার্ট হিসেবে পরিচিত মার্স একটি বহুপ্রজন্মের পারিবারিক ব্যবসা, যা সর্বব্যাপী, সস্তা ও তুমুল জনপ্রিয়। বর্তমানে কোম্পানিটি এমঅ্যান্ডএম তৈরির জন্য বেশি পরিচিত। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ফ্র্যাংক মার্সের তৃতীয় প্রজন্ম জ্যাকুলিন ও জন মার্স, যাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার এবং ফোর্বসের তালিকায় স্থান যুগ্মভাবে ৩৩তম। বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনায় রয়েছেন তাদের সন্তানরা অর্থাৎ মার্স পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম।

বেহনা আহনু ও পরিবার (এলভিএমএইচ)

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৭ হাজার ২২০ থেকে ৮ হাজার ৩১০ কোটি ডলার

৭০টির মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ফরাসি কনগ্লোমারেট এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান ও সিইও বেহনা আহনু। স্বনামের কোম্পানি লুই ভিঁতো, ময়ে, হেনিসি ছাড়াও তার আরো রয়েছে ফ্যাশন লেবেল ক্রিশ্চিয়ান ডিওর ও ফেন্ডি, ডোম পেরিগনন শ্যাম্পেন, হেনিসি লিকার, উবলু ও টগ হয়ার ঘড়ি এবং প্রসাধনী বিপণি সেফোরা। তরুণ বয়সে বাবার নির্মাণ ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন আহনু, পরে নিজস্ব উদ্যোগে পারিবারিক অর্থ লগ্নি করেন তিনি। গত শতকের আশির দশকে এলভিএমএইচ প্রতিষ্ঠা এবং ফরাসি বস্ত্র কোম্পানি বোসাক অধিগ্রহণ করেন। কয়েক দশক ধরেই সম্পদশালী আহনু, তবে এলভিএমএইচের রেকর্ড মুনাফা ও ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের শেয়ার ক্রয়ের কারণে গত বছর তার সম্পদে আরো ৩ হাজার ৫০ কোটি ডলার যোগ হয়েছে। বর্তমানে তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই আভেক পাপায় কর্মরত।

কার্লোস স্লিম হেলু ও পরিবার

সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ৬ হাজার ৪০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম মোবাইল টেলিকম প্রতিষ্ঠান আমেরিকা মোভিলের পাশাপাশি মেক্সিকোর একমাত্র ফোন কোম্পানি টেলমেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন মেক্সিকোর শীর্ষ ধনী কার্লোস স্লিম ও তার পরিবার। সামান্য একজন দোকান মালিকের সন্তান স্লিম ১৯৮২ সালে অধিকাংশ সম্পদের মালিক হন। সে সময় মেক্সিকোর ধসে পড়া অর্থনীতির সুবিধা নিয়ে সস্তায় কোম্পানি কেনেন তিনি।

            সূত্র: ইনভেস্টোপিডিয়া