শেষ পাতা, সাক্ষাৎকার, , ,

ভেজাল নিয়ন্ত্রণের আগে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে

২৩:২২:০০ মিনিট, মার্চ ২৭, ২০১৯

মো. সারওয়ার আলম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাব সদর দপ্তরে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯৬টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। ভেজালের দায়ে জেল-জরিমানা করেছেন ৩ হাজার ১১৪ জনকে। চার বছরের ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহফুজ উল্লাহ বাবু ও নিহাল হাসনাইন

খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে সব নিত্যপণ্যই ভেজাল হচ্ছে। এর মধ্যে কোন ধরনের পণ্যে ভেজালের ব্যাপকতা বেশি?
সবচেয়ে বেশি ভেজাল হচ্ছে খাবার ও ওষুধে। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তখন কিন্তু সে দেশের অর্থনীতিতে তার ভূমিকাটা রাখতে পারছে না। ৪৫-৫০ বছর বয়সী একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যায়, তার পক্ষে আর ভালো ভূমিকা রাখা সম্ভব হয় না। এজন্য আমাদের প্রথমেই বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আরো একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে তা হলো, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সুচিকিৎসা যেন পায়। এ দুটি জায়গায় কোনোভাবেই আপস করা যাবে না।

এখন বিষয়টা হচ্ছে, কীভাবে আমরা এটা নিশ্চিত করতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন খাবারের যে ভেজাল, সেটা কিন্তু কয়েকভাবে হচ্ছে। প্রথমত, আমাদের অজান্তেই কিছু ভেজাল হয়ে যাচ্ছে। যেমন আমাদের কৃষকরা চাষাবাদের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করছেন। সকালে কীটনাশক দিয়ে বিকালেই সেই সবজি তুলে বিক্রি করছেন। তিনি হয়তো জানেনই না যে কীটনাশক প্রয়োগের সাতদিন পর্যন্ত সবজিটা তোলা যাবে না। ফলে যেটা হচ্ছে, কীটনাশকযুক্ত খাবার যখন আমরা গ্রহণ করছি, তখন কিন্তু এগুলো আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে। এ জায়গাটায় আসলে সচেতন করা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যারা এসবের দায়িত্বে রয়েছেন, উদ্যোগটা তাদেরই নিতে হবে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, আমদানির ক্ষেত্রে আমাদের আরো নিবিড় তদারকি দরকার। আমদানি আদেশে বলা আছে, খাদ্যপণ্য আমদানি করলে সেখানে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই প্রচুর পণ্য চলে আসছে। যেকোনোভাবে হোক আমদানিকারকরা এগুলো নিয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো পণ্য যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।

এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যাপারেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিকভাবে এগুলো হচ্ছে কিনা সেটাও নিবিড়ভাবে তদারক করতে হবে।

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯