ভ্রমণ

যেথায় হাসে সূর্যমুখী

২১:২৮:০০ মিনিট, মার্চ ২২, ২০১৯

সিলেট শহর থেকে অল্প দূরত্বে কামাল বাজারে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। মাঠজুড়ে হলুদের রাজ্য দেখে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা। হলুদের আভায় চারদিকে যেন ছড়িয়ে আছে অপার মুগ্ধতা! এ রূপে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে যে কারোরই। সবুজ মাঠ আর হলুদ ফুলের ওপর মৌমাছি, পাখির আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। একের পর এক ছবি তুলতে লাগলাম

সহধর্মিণী সানন্দা এসেছে সিলেটে, আগে থেকেই আবদার করে রেখেছিল তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। কিন্তু নতুন কোথায় যাওয়া যায়, পড়লাম বেশ চিন্তায়। হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোঁজ পেলাম সিলেট শহর থেকে অল্প দূরত্বে কামাল বাজারে সূর্যমুখী ফুলের বাগানের। পরিকল্পনা এঁটে ফেললাম। শনিবার দ্বিতীয় প্রহরে আমরা বের হলাম সূর্যমুখী ফুলের বাগান ঘুরে দেখার জন্য।

সূর্যদেবের প্রখরতার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি নতুন গন্তব্যপানে। সঙ্গে আছেন আমাদের পাইলট পলাশ ভাই। বন্দর বাজার, দক্ষিণ সুরমা, টেকনিক্যাল রোড পেরিয়ে চলছি আমরা। মহাসড়ক থেকে নতুন পথে পা দিলাম। আমরা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পথে দেখা মিলল মায়াবতী সুরমা নদীর অসাধারণ রূপ। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে মাছ ধরছে নাম না জানা মাঝি। আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলছে রেললাইনের পাশঘেঁষে। রেললাইনের আঁকাবাঁকা পথের দৃশ্য মনকে নাড়িয়ে দেয়। আমরা গাড়ি থেকে নেমে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। এদিকে সূর্যমামা তার রক্তিম বর্ণ প্রদর্শন করে মায়াবী রূপ ধারণ করেছে।

রেললাইন ধরে হাঁটছি আর নতুন স্থানের সবকিছু দেখছি প্রখর দৃষ্টিতে বেশ মনোযোগের সঙ্গে। আমাদের গাড়ির পাইলট পলাশ ভাই মনে করিয়ে দিলেন, আমাদের গন্তব্য কামাল বাজারে যেতে হলে এখনই যেতে হবে, তাই আমরা আবার গাড়িতে চেপে রওনা হলাম গন্তব্যে। নতুন গন্তব্য পথ, তাই চারদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে। এই বুঝি গন্তব্যস্থল পেরিয়ে চলে যাচ্ছি। স্বাগতম কামাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ দেখে খুব খুশি হলাম; এবার বোধকরি চলে এসেছি গন্তব্যে। কিন্তু বেশ খানিকটা পথ যাওয়ার পরও কোনো ফুলের তো দেখা পাচ্ছি না। ভুল পথে চলছি না তো আমরা। পলাশ ভাইকে বললাম, এলাকার কারো কাছে জেনে নিন—সঠিক পথে যাচ্ছি তো আমরা। পলাশ ভাই গাড়ি থামিয়ে জানতে চাইলেন, কোথায় গেলে সূর্যমুখী ফুলের বাগানের দেখা পাওয়া যাবে। প্রত্যুত্তরে এক ভদ্রলোক বললেন, সামনেই দেখা পাবেন ফুল বাগানের। আগন্তুকের কথামতো কিছু দূর যাওয়ার পরই আমরা দেখা পেলাম কাঙ্ক্ষিত সেই সূর্যমুখী ফুলের বাগানে।

নীল আকাশের মায়াবী রূপের সঙ্গে সূর্যমুখী ফুলের মায়াবী রূপ যে কারোর মনকে নাড়া দিতে বাধ্য। আমাদের মতো অনেকেই এসেছেন এ নতুন গন্তব্য দেখতে। মাঠজুড়ে হলুদের রাজ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা। হলুদের আভায় চারদিকেই যেন ছড়িয়ে আছে অপার মুগ্ধতা। এর রূপে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে যে কারোরই। সবুজ মাঠ আর হলুদ ফুলের ওপর মৌমাছি, পাখির আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। ফুল থেকে তেল উৎপাদনের পাশাপাশি এখানে উৎপাদন হচ্ছে মধুও। সূর্যমুখী ক্ষেতে পাখির আনাগোনা। সূর্যমুখী ফুলের মোহনীয় রূপ আমাদের বিমোহিত করল। অনুমতি নিয়ে বাগানে প্রবেশ করি আমরা। অসাধারণ লাগছিল সূর্যমুখী ফুলের বাগান দিয়ে হেঁটে যেতে। আমি একের পর এক ছবি তুলতে লাগলাম।

বলে রাখা ভালো, শীতের ফুল সূর্যমুখী। এ ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর নাম হয়েছে সূর্যমুখী। শীতকালীন শস্য হিসেবে ১৯৭৫ সাল থেকে সূর্যমুখী তেল ফসল হিসেবে দেশে আবাদ হচ্ছে। খেয়াল রাখবেন, সূর্যমুখী ফুলের বাগান ঘুরে দেখতে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করুন ফুল বাগানে। কোনো পানির বোতল, চিপস প্যাকেট ফেলে দূষিত করবেন না পরিবেশ।

পথের ঠিকানা

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯