টেলিকম ও প্রযুক্তি

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯’ শুরু

০০:০০:০০ মিনিট, মার্চ ২০, ২০১৯

‘টেকনোলজি ফর প্রসপারিটি’ স্লোগান নিয়ে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯ শুরু হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে আগামীকাল। চলতি বছর যৌথভাবে ১৫তম বেসিস সফটএক্সপোর আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

গতকাল সকাল ১০টায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯-এর উদ্বোধন করেন। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর আহ্বায়ক ও বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারহানা এ. রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বেসিস সফটএক্সপোর প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাপ, ড্রোনের মতো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে আমরা বিশ্বমানের মেলা আয়োজনে সক্ষম হচ্ছি। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো

উন্নয়নের অবস্থান বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি এবং দেশের ৯৫ শতাংশ ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে আন্তরিক। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইনফো সরকার থ্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ছয় লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে তোলা হবে। বর্তমানে দেশের ১০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট কাজ করছে, যা ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখে পৌঁছবে।

দেশীয় সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকারি কাজে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়া দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা বাড়াতে এবং দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে দেশীয় টেলিকম খাত ও ব্যাংকিং খাতকে অনুরোধ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের আয়োজনটি বেশ বড় এবং চমকপ্রদ। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনে এ আয়োজন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমন একটি আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। 

সভাপতির বক্তব্যে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, এবারের বেসিস সফটএক্সপো সফটওয়্যার ও আইটিএস সেবা প্রদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার দিক থেকে এ আয়োজন শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এ আগ্রহ ও অংশগ্রহণ এটা প্রমাণ করে যে এ শিল্প খাতের অবস্থান আশাব্যঞ্জক ও সম্ভাবনাময়।

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান সামগ্রিক আয়োজন সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

তিনি জানান, এবার ১০টি পৃথক জোনে ২৫০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। প্রদর্শনীতে থাকছে ৩০টির মতো সেমিনার, বিজনেস লিডারশিপ মিট, আইটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, গেমিং ফেস্ট ইত্যাদি। এছাড়া জাপানের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণে ১০টি জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বি-টু-বি এবং তিনটি সেমিনার ছাড়াও এক্সপোর দ্বিতীয় দিনকে জাপান দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বি-টু-বি ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বেসিস সফটএক্সপো আয়োজনে সহযোগী সব প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। 

চলতি বছর বেসিস সফটএক্সপোতে পার্টনার হিসেবে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এছাড়া প্রদর্শনীর ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ জোন এবং এক্সপেরিয়েন্স জোন পার্টনার হিসেবে রয়েছে লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট (এলআইসিটি) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

চলতি বছর প্রদর্শনী এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন সংযোজন ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ জোন এবং এক্সপেরিয়েন্স জোন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরবে। রয়েছে উইমেন জোন, ভ্যাট জোন, ডিজিটাল এডুকেশন জোন, ফিনটেক জোন এবং বরাবরের মতো রয়েছে সফটওয়্যার সেবা প্রদর্শনী জোন, উদ্ভাবনী মোবাইল সেবা জোন, ডিজিটাল কমার্স জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন। ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনারের আয়োজন রাখা হয়েছে। যেখানে বক্তব্য রাখবেন শতাধিক দেশী-বিদেশী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে বি-টু-বি ম্যাচমেকিং সেশন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার প্রসার খুব সহজেই করতে পারবেন। আয়োজন করা হবে করপোরেট আওয়ার, জাপান ডে। লিডারশিপ মিটে অংশ নেবেন পাঁচ শতাধিক করপোরেট হাই-অফিশিয়াল। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প আর বরাবরের মতো গেমিং ফেস্ট।