শেষ পাতা

বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট থাকবে না —প্রধানমন্ত্রী

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০১:৪৪:০০ মিনিট, মার্চ ১৫, ২০১৯

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জন্য দেশের বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টাঙ্গাইলে গতকাল কুমুদিনী ট্রাস্ট কমপ্লেক্সে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রণদা প্রসাদ সাহা আমাদের দেশের নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো থেকে শুরু করে মানবতার সেবায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা অনুসরণ করার মতো অনেক বিত্তশালী আমাদের দেশে আছেন, তারাও করতে পারেন। তাহলে আমাদের দেশের মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ব্যাপকভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি শুধু মানুষের সেবা করার জন্য এবং মানুষকে মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিরাট এক কর্মযজ্ঞ গড়ে তুলেছিলেন। রণদা প্রসাদ দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তায় বাংলার অন্যতম ধনীতে পরিণত হয়েছিলেন। অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়ার পরও তিনি ভোগ-বিলাসে ডুবে যাননি। বরং অর্জিত অর্থ মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন।

নারী শিক্ষার প্রসারে রণদা প্রসাদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একে একে ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী কলেজ ও পিতার নামে দেবেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেন।

কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের (বিডি) ৮৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এ বছরের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। তারা হচ্ছেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র কিংবদন্তিতুল্য রাজনৈতিক নেতা ও তদানীন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), ভাষাসৈনিক ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শাহবুদ্দীন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা ও জাতীয় কবির পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে চড়ে মির্জাপুর হেলিপ্যাডে পৌঁছলে জেলা পুলিশ তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জেলার ৩১টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

রণদা প্রসাদ সাহার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের যোগসূত্রের কথা স্মরণ করতে গিয়ে ’৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ও ভাষণে টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই কিন্তু আমার যাত্রা। আমি মা-বাবা সব হারিয়ে যখন এ মাটিতে ফিরে আসি, তখন আমার চারদিকে ছিল শুধু অন্ধকার। শুধু একটাই আলোকবর্তিকা পেয়েছিলাম, বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা পেয়েছি। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বাবার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার বাবা এ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য সারা জীবন যে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, তারই পাশে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন আমার মা। তাদের কথা সবসময় মনে রেখেছি।