শেষ পাতা

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী : তিন স্তরে ভ্যাট, হার হবে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৪৪:০০ মিনিট, মার্চ ১৫, ২০১৯

আগামী ১ জুলাই থেকে তিন স্তরের ভ্যাট কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভ্যাটের হার হবে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ। পাশাপাশি করপোরেট করহার কমানো এবং শস্য বীমা ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা চালুরও ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভায় অর্থ, পরিকল্পনা, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, সেক্ষেত্রে হার কী হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের প্রথম বছরই আমরা ৫০ হাজার মেশিন বসিয়ে ভ্যাট আহরণ নিশ্চিত করব। এর সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

আয়কর ও করপোরেট করহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের করপোরেট করহার অনেক বেশি। এ কর যতটা সম্ভব কমানো হবে। রাজস্বের প্রধান উৎস ভ্যাট, শুল্ক, আয়কর ও করপোরেট কর। তাই রাজস্ব আহরণের দিকেও নজর রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়ার কথা বলেন তিনি।

খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি আদায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে সুসংহত করতে খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আমরাও এটি করতে চাই। যেসব ঋণ স্বাভাবিকভাবে আদায় করা কঠিন হবে, সেগুলো আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিকে।

কোম্পানির ধরন ও কার্যপরিধি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমেরিকায়ও আছে। তারাও আদায় করা কঠিন খেলাপি ঋণ এভাবে আদায় করে। আমরাও একইভাবে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করব।

এ সময় ইংল্যান্ডে ইনসলভেন্সি আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদাহরণও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ রকম কিছু করা যায় কিনা সেগুলো নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী কাজ করা হচ্ছে। কোথায় কী হারে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেখভাল করছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যাচাই-বাছাই করে তিন অর্থবছরের মধ্যে সেগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে।

এবারের বাজেটে রফতানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব থাকবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, রফতানি বাড়াতে ও বাজার বহুমুখী করতে ইনসেনটিভ যৌক্তিকীকরণ করা হবে। পাশাপাশি আরএমজি ও আইসিটি খাতে গুরুত্ব থাকবে।

এছাড়া বন্যাপ্রবণ হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষকদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ থাকবে আগামী বাজেটে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা চালুর বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। যুবগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ এবং প্রতিটি পরিবারে একজনের চাকরির ব্যবস্থা করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন (রিমি), অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।