খবর

বিজ্ঞাপনের আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ : সিআইডিকে নথি দিল দারাজ পিকাবুসহ ১০ ই-কমার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৪৪:০০ মিনিট, মার্চ ১৫, ২০১৯

অনলাইনে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যয়সহ সংশ্লিষ্ট নথি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) জমা দিয়েছে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে হাজির হয়ে নথিপত্র জমা দেন। এখন নথি পর্যালোচনা করে মুদ্রা পাচারের প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে সিআইডি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ায় সম্প্রতি ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে তলব করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের মানি লন্ডারিং টিম। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো সিআইডিকে জানায়, ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের অর্থ তাদের বিদেশী অংশীজনরা পরিশোধ করে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চায় সিআইডি। চাহিদা মোতাবেক গতকাল কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন পিকাবু, আজকের ডিল, বিক্রয় ডটকম, চালডাল ডটকম, দারাজ ডটকম, ফুডপান্ডা, খাশফুড, অথবা ডটকম, রকমারি ও সেবা ডট এক্সওয়াইজেডের প্রতিনিধিরা।

এ প্রসঙ্গে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম প্লাটফর্ম ফেসবুকে বাণিজ্যিকভাবে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ বড় অংকের অর্থ ব্যয় করছে, এমন তথ্য পেয়েছেন তারা। এর মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

সিআইডির তথ্যমতে, ই-কমার্স খাতের ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করছে অন্তত ১ হাজার ডলার। আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় করছে ৮-১০ হাজার ডলার। বিজ্ঞাপনের এ অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী ডুয়াল কারেন্সির ক্রেডিট কার্ড (একই সঙ্গে টাকা ও অন্য মুদ্রায় লেনদেনযোগ্য) থেকে সার্কভুক্ত দেশে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার আর সার্কের বাইরে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ডলার খরচ করা যাবে। এর অতিরিক্ত ব্যয় করতে চাইলে তাকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে বাংলাদেশের মানুষকে টার্গেট করে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। তবে বিজ্ঞাপন বাবদ যে টাকা ব্যয় করা হবে, তার জন্য অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে এবং সেটা পৃথকভাবেই নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এ অনুমতি না নিয়ে বিজ্ঞাপনের টাকা পরিশোধ করে, তবে তা মুদ্রা পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।