শেয়ারবাজার

টানা সপ্তম সপ্তাহে দরপতন দেশের শেয়ারবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০:৩১:০০ মিনিট, মার্চ ১৫, ২০১৯

শেয়ারবাজারের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী চাঙ্গা ভাব প্রত্যাশা জাগালেও আবারো টানা পতনের বৃত্তে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। ব্যাংকসহ বড় মূলধনি কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ না থাকায় গেল সপ্তাহসহ টানা সপ্তম সপ্তাহে দরপতন হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান প্রধান সূচকে। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে তিনদিনই সূচক কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেনও ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে ডিএসইতে ৭৪ ও সিএসইতে ৭৬ শতাংশ সিকিউরিটিজের শেয়ার-ইউনিটের দরপতন ঘটেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের পতন কাটিয়ে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে। রোববার লেনদেন শেষে ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১০ পয়েন্টে উন্নীত হয় ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবসেই পতন শুরু হয় সূচকের। তিন কার্যদিবসের টানা পতনে বুধবার লেনদেন শেষে ৫ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে নেমে যায় সূচকটি। বৃহস্পতিবার কিছুটা সংশোধনে ফিরলেও সপ্তাহ শেষে ৩৩ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ডিএসইএক্স। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ৫ হাজার ৬৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে ডিএসইএক্স, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৬৮৬ পয়েন্টে।

প্রধান সূচকে টানা নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও গেল সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০। সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৬২ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়েছে সূচকটি। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ২ হাজার ৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৯৯৩ পয়েন্টে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৩০৩ পয়েন্টে।

এদিকে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমছে ডিএসইতে। গেল সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৫৭৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৯৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকায়। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৯৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ২৬২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতেও গেল সপ্তাহে সূচক কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান সূচক সিএসসিএক্স দশমিক ২২ শতাংশ বা ১০ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই ৩০ ইনডেক্স দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ২৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ২৬৩ পয়েন্টে। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১২২ কোটি ৭৩ কোটি টাকায়। লেনদেন হওয়া ৩০১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫৪টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সপ্তাহ শেষে দর হারিয়েছে ২৩০টি আর অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির বাজারদর।