খেলা

মেসির জোড়া গোলের ম্যাজিকে শেষ আটে বার্সা

বণিক বার্তা অনলাইন | ১২:১৪:০০ মিনিট, মার্চ ১৪, ২০১৯

নিজে করলেন জোড়া গোল। কিন্তু সেটাই তো তার জন্য আর যথেষ্ট হতে পারে না। তাই জোড়া গোলের পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলে রাখলেন অবদান। এক কথায় এমন জোড়া গোলের ম্যাজিক দেখিয়ে লিওঁকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে নিয়ে গেলেন নিজ দল বার্সেলোনাকে। আর এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সই দেখালেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে আবারও নিজেকে মেলে ধরলেন দুর্দান্ত রূপে।

কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে ফরাসি ক্লাবটিকে ৫-১ গোলে হারায় এরনেস্তো ভালভেরদের দল। লিওঁর মাঠে প্রথম পর্ব গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।

মেসির গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি গোল শোধ করেন লুকা তুজা। কিছুক্ষণ পর ব্যবধান আবারও বাড়ান মেসি। আর শেষ দিকে জেরার্দ পিকে ও উসমান দেম্বেলের গোলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাঁ পায়ের বাঁকানো শট বাঁক খেয়ে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

সপ্তদশ মিনিটে অধিনায়কের স্পট কিকেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। মেসির বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢোকা লুইস সুয়ারেস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পানেনকা শটে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা।

দুই মিনিট বাদেই সমতা টানার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল অতিথিরা। কিন্তু গোল করার মতো পজিশন থেকে মেমফিস ডিপাইয়ের শট ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমোঁ লংলের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।

খানিক পর বল দখলের লড়াইয়ে কৌতিনিয়োর পায়ে লিওঁ গোলরক্ষক অঁতনি লোপেজের মাথায় আঘাত লাগে। অনেকক্ষণ মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অঁতনি। কিন্তু অসুস্থ বোধ করায় ৩৪তম মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এর ফাঁকে ৩১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে দলটি।

বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে এগিয়ে যান সুয়ারেস। তাকে বাধা দিতে ছুটে আসেন গোলরক্ষক। আর সেই সুযোগে বাঁ দিকে ফাঁকায় বল বাড়ান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। অনায়াসে প্লেসিং শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কৌতিনিয়ো।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিওঁ। ৫৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বার্সার ডি-বক্সে উড়ে আসা বল ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান লুকা তুজা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে নিচু শটে ব্যবধান কমান তিনি।

পরে প্রতিপক্ষ শিবিরে আক্রমণের ঢেউ তোলে বার্সা। মুহুর্মুহু আক্রমণে লিওঁকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন মেসিরা। ফলে ফের সাফল্য পান তারা। ৭৮ মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে স্কোরলাইন ৩-১ করেন মেসি। সার্জিও বুসকেটসের পাস পেয়ে ডি-বক্সে এক ঝটকায় দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের চলতি আসরে এটি তার অষ্টম এবং সবমিলিয়ে ১০৮তম গোল। আর ঘরের ভেন্যুতে ৬১ ম্যাচে ৬২তম। এ নিয়ে টানা ১১ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫টি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

বাকি সময় চলেছে বার্সার একচেটিয়া আধিপত্য-দাপট। পরক্ষণে দৃশ্যপটে ফের মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে জেরার্ড পিকেকে পাস দেন তিনি। ছুটে এসে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন সতীর্থ। পাঁচ মিনিট পর আবারও মেসি জাদু। এবার মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে উসমানে ডেম্বেলেকে পাস বাড়ান তিনি। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ঠিকানায় বল পাঠান কুতিনহোর বদলি নামা এ ফরোয়ার্ড।

এতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্নেস্তো ভালভার্দের শিষ্যরা। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত (২৭ জয়, তিন ড্র) থাকলো বার্সেলোনা, যা প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড।