আন্তর্জাতিক ব্যবসা

সরকারি কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে আরো কঠোর হচ্ছে যুক্তরাজ্য

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:২৫:০০ মিনিট, মার্চ ১২, ২০১৯

সরকারি চুক্তি পেতে চায়, এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজের উন্নতিকল্পে আরো বেশি দায়িত্ব গ্রহণ এবং সহযোগিতামূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। কয়েকজন মন্ত্রীর তথ্য অনুসারে, সরকার চায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক দাসত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো মোকাবেলা করুক। যুক্তরাজ্য সরকার প্রতি বছর বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৯০০ কোটি পাউন্ডের কাজ দিয়ে থাকে। চলতি বছরের কাজের চুক্তির ঘোষণা এখনো দেয়া বাকি রয়েছে। জানা গেছে, এখন থেকে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক হারে কাজ দেয়ার চেষ্টা করবে সরকার। খবর বিবিসি।

ক্যাবিনেটবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন বলেন, যেসব কোম্পানি জনগণের কর থেকে অর্থ পাচ্ছে, তাদের কাছে যুক্তরাজ্য সরকারের কয়েকটি ক্ষেত্রে দাবিদাওয়া তোলা নৈতিকভাবে সঠিক।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, সরকারি বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে নীতিগত এ পরিবর্তন কোনো ধরনের জটিলতা ও খরচ বাড়াবে না। লিডিংটন বলেন, সামাজিক মূল্যবোধগুলো শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর মধ্যেও যেন প্রতিফলন ঘটে, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি অর্থনীতি তৈরির দিকে কয়েক ধাপ এগোব, যা সবার কল্যাণে কাজ করবে।

চ্যারিটি অ্যান্টি-স্লেভারি ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি দাতব্য সংগঠন যুক্তরাজ্য সরকারের এ প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংগঠনটি সরকারের পক্ষ থেকে আরো বেশি কিছু প্রত্যাশা করছে। পুরো যুক্তরাজ্যেই আধুনিক দাসত্ব বিরাজ করছে। গৃহস্থালি কাজ, নির্মাণ খাত, কৃষি, ক্যাটারিং, গাড়ি ধোয়ার মতো কাজে উচ্চহারে তা দেখতে পাওয়া যায়।

অ্যান্টি-স্ল্যাভারি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র জাকুব সোবিক বিবিসিকে জানান, বর্তমানে

বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাপ্লাই চেইনে দাসত্বের বিষয়টি অবহিত করতে হয়। কিন্তু প্রতিবেদন পেশ করার ব্যর্থতা কিংবা দাসত্বের উপস্থিতি প্রমাণের বিপরীতে আইনে কোনো ধরনের শাস্তি নেই।

শোষণমূলক ব্যবস্থার শুধু একটি অংশ আধুনিক দাসত্ব। অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করার মতো চর্চাগুলো বন্ধ করার স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে ওই সাক্ষাত্কারে জানান তিনি। দরপত্র প্রক্রিয়ার সময় কোম্পানিগুলোর দাম কমানোর অপচেষ্টাও সরকারের থামানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সোবিক বলেন, ‘আমরা চাই সরকার এটা নিশ্চিত করুক, যে মূল্য তারা দিচ্ছে, তা সেবার বিপরীতে সঠিক। সেবার জন্য তারা যে দাম পাচ্ছে, সেটি কর্মচারীদের ন্যায্য অর্থ প্রদানের জন্য যথেষ্ট বেশি না হলে কোম্পানিগুলো শোষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কাজ আদায় করার অনুশীলনে নামে।’

এখন থেকে সরকারি চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব কোম্পানি বিবেচনায় থাকবে:

 

সেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী, জাতিগত সংখ্যালঘুসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়োগ দিয়ে থাকে

কীভাবে কোম্পানিগুলো নিজ সাপ্লাই চেইনে আধুনিক দাসত্ব ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করছে

যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতে কাজ করছে

কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে

যেসব কোম্পানি নিজেদের

কর্মীদের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ

বিকাশে সহায়তা করছে