খবর

স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ১৮:১৬:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

 স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। যথাযথ মর্যাদা, গুরুত্ব ও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে বাণী পাঠ ও উপস্থিত সবার সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অপরাহ্নে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। ভাষা শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে আগত অতিথিবৃন্দসহ রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম প্রতীকী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সব শহীদ ও গতকাল ঢাকায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের আত্নার শান্তি কামনা করে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও চেতনা তুলে ধরে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগে দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে মহান শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষার জন্য বাঙ্গালিদের জীবন বিসর্জনের অনন্য দৃষ্টান্ত ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দিবসটির স্বীকৃতির বিষয়ে আলোকপাত হয়। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতা অর্জনে অমর একুশের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের দিকসমূহ তুলে ধরেন আলোচকরা।

বাংলা ভাষার প্রতি ভাষা শহীদদের গভীর মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য চরম আত্নত্যাগ তাঁদেরকে মহিমান্বিত করেছে। ভাষা আন্দোলন ও ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘে তাঁর বাংলায় ভাষণের মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাভাষার উত্কর্ষ সাধনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন আর তাঁরই জোরালো প্রচেষ্ঠার ফলে ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারি  আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবেসের স্বীকৃতি অর্জন করে যার ফলে আজ বিশ্বের সব জাতিগোষ্ঠি এ দিবসটি পালন করছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাংলাভাষা রক্ষা ও বিকাশে ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সন্তানদেরকে অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলাভাষা শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী, কলা-কুশলী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নিয়মিত শিল্পীদের পাশাপাশি উল্লেখসংখ্যক শিশু অংশগ্রহণ করে একুশের উপর ছড়া পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত শিল্পী ও কলা-কুশলীবৃন্দকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। নৈশভোজ পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।