শিল্প বাণিজ্য

আজ হস্তান্তর হবে ‘বাংলার অগ্রদূত’ : বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন অয়েল ট্যাংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো | ২২:২৩:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) যুক্ত হচ্ছে নতুন অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি বাংলার অগ্রদূত’। নতুন ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় অয়েল ট্যাংকার হিসেবে এটি বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে। ট্যাংকারটি আজ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির কাজে ট্যাংকারটি ব্যবহার করা হবে বলে বিএসসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রায় ৩৯ হাজার ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাংলার অগ্রদূতের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৪ নটিক্যাল মাইল। ট্যাংকারটি বিশ্বের যেকোনো নৌ-রুটে চলতে সক্ষম।

বিএসসি সূত্র অনুযায়ী, ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে ট্যাংকারটি আনা হচ্ছে। চীনের এনওয়াইজেড শিপইয়ার্ডে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালে ট্যাংকারটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। বাংলার অগ্রদূতের মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এর দৈর্ঘ্য ১৮৫ মিটার, প্রস্থ ২৮ মিটার ও গভীরতা ১১ দশমিক ৭ মিটার। ট্যাংকারটিতে নাবিক থাকবেন ৩২ জন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দ বণিক বার্তাকে জানান, ‘বাংলার অগ্রদূত’ ট্যাংকারটির মাধ্যমে যেকোনো উৎপাদনকারী দেশ থেকে পরিশোধিত ভোজ্যতেল আনা যাবে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আজ আমাদের কাছে ট্যাংকারটি হস্তান্তর করবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তিনি আরো বলেন, আগামী মাসে ‘এমটি বাংলার অগ্রগতি’ নামের আরেকটি জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাংকারটির গুণগত মান তদারকির জন্য জাহাজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে লয়েড’স রেজিস্টার নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত ছিল। এছাড়া ট্যাংকারটি নির্মাণের সময় এর গুণগত মান বজায় ছিল কিনা, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিএসসির পক্ষ থেকেও একটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারভাইজর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার চীন থেকে মোট ছয়টি জাহাজ কিনছে। এর মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার। বাকি তিনটি অয়েল ট্যাংকার। এসব জাহাজের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার ডিডব্লিউটি। তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি অয়েল ট্যাংকার এরই মধ্যে বিএসসির বহরে যোগ হয়েছে।

এ ছয়টি জাহাজ ছাড়াও বিএসসির জন্য নতুন আরো ছয়টি জাহাজ সংগ্রহ করা হবে। এগুলোর মধ্যে দুটি মাদার ট্যাংকারের প্রতিটির ধারণক্ষমতা হবে এক লাখ থেকে সোয়া লাখ ডিডব্লিউটি। বাকি চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার অয়েল ট্যাংকার ও দুটি সমান ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ার।