আন্তর্জাতিক ব্যবসা

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি খাত সংস্কারের উদ্যোগ চীনের

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৪২:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি খাতের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সম্প্রসারিত করবে চীন। ২০১৯ সালের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রথম বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে চীনা সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা প্রশমিত করতে চাইছে চীন। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করতে নতুন এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্স।

২০১৮ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি চীনে ২৮ বছরে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলছে দেশটির বাণিজ্য বিরোধ। এমন পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার কৃষি খাত সংস্কারের একটি নীতি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বেইজিং।

সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনীতিতে নিম্নমুখী চাপ বাড়ায় এবং বৈশ্বিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসায় জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া খুবই জরুরি।

২০১৭ সালে চীন প্রথম গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও উপার্জন বাড়ানোর একটি কৌশল গ্রহণ করে। চলতি বছর এ কৌশলকে পুনরুজ্জীবিত করার কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছে চীনা সরকার।

চীনের নতুন এ নীতিতে দেশের ভেতরেই সয়াবিন উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। চলতি মাসের শুরুতেই এ ধরনের একটি পরিকল্পনার কথা জানান চীনের কৃষিমন্ত্রী হ্যান চাংফু। তবে নতুন এ নীতি বিষয়ে শিল্প বিশ্লেষকরা জানান, তারা নতুন নীতিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছেন। বিস্তারিত জানার পরই পরিকল্পনাটির প্রভাব সম্পর্কে মূল্যায়ন করা যাবে।

কয়েক বছর ধরে শস্য উৎপাদনের কাঠামো ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে চীন। ভুট্টার মজুদ বেড়ে যাওয়ায় দেশটি ভুট্টা উৎপাদন কমিয়ে আনছে। অন্যদিকে যেহেতু তেলজাতীয় শস্যগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আমদানি করতে হচ্ছে, সেহেতু এগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর দিকে তারা মনোযোগ দিচ্ছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের কারণে এ পরিবর্তন আরো বেশি আবশ্যক হয়ে উঠেছে। কারণ চীনের সয়াবিনের প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সয়াবিন আমদানির ওপর চীন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় দেশটিতে সয়াবিন সরবরাহ সংকটের মধ্যে পড়েছে।

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সয়াবিন উৎপাদন বাড়াতে ভর্তুকি চালু করতে চীনা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন হ্যান। একই সঙ্গে ভুট্টা ও গমসহ অন্যান্য শস্যের পরিবর্তে সয়াবিন উৎপাদনের দিকে জোর দেয়ার কথা বলেন তিনি। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি নথি অনুযায়ী, ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় সরিষা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বেইজিং।

চীনা সরকারের নথিটি প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল দেশটির গবাদি পশুপালন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে। দেশটির সরকার জানায়, তারা আফ্রিকা থেকে উদ্ভূত সোয়াইন ফিভারের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনার দিকে মনোযোগ দেবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পাচার রোধ করার আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।