প্রথম পাতা

শিগগিরই আসছে ফ্রিকোয়েন্সি নীতিমালা

৫০ শতাংশের কম ব্যবহারে বাতিল হবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৩৪:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

চাহিদা জানিয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোকে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা না থাকায় বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পক্ষে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দে নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক। বরাদ্দের এক বছরের মধ্যে কোনো এয়ারলাইনস ৫০ শতাংশ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারে ব্যর্থ হলে তা বাতিল করে অন্য এয়ারলাইনসকে দেয়ার বিষয়টি থাকছে এ নীতিমালায়।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এয়ারলাইনসগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে যাতে ফেলে না রাখে, সেজন্যই নীতিমালাটি করা হচ্ছে। কারণ মূল্যবান ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার না হলে ভ্রমণ করসহ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সরকার। এটি বন্ধ করতে ‘বাংলাদেশী এয়ার অপারেটরের অনুকূলে আন্তর্জাতিক রুটে মনোনয়ন প্রদান, ট্রাফিক অধিকার বণ্টন ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের নীতিমালা-২০১৯’ শীর্ষক একটি নীতিমালা করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে এটি প্রকাশ করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্রিকোয়েন্সির বরাদ্দ পেতে অন্তত এক বছর অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের। এছাড়া বেবিচকের নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিগুলোও অনুসরণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ ও ব্যবহার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শীতকালীন শিডিউল ও পরবর্তী গ্রীষ্মকালীন শিডিউলে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের অপারেশন পরিকল্পনা ও চাহিদা জানাতে হবে। পরবর্তী সময়ে মে মাসের মধ্যে বেবিচকের মাধ্যমে এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ ফ্রিকোয়েন্সি এক বছরের জন্য দেয়া হবে, যা অক্টোবরে শুরু হওয়া শীতকালীন ও মার্চে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন শিডিউলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে কোনো এয়ারলাইনস যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট রুটে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ করা ট্রাফিক অধিকার ও ফ্রিকোয়েন্সির ৫০ শতাংশের বেশি অব্যবহূত রাখলে তা বাতিল করে অন্য এয়ারলাইনসকে বরাদ্দ দিতে পারবে বেবিচক।

এছাড়া ট্রাফিক অধিকার ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ফ্লাইট পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও ফ্লাইট সেফটির রেকর্ড এবং নিজস্ব বহরে বাংলাদেশে নিবন্ধিত উড়োজাহাজের সংখ্যা, আর্থিক সচ্ছলতা ও বেবিচকের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধের রেকর্ড বিবেচনা করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, প্রতিটি দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদিত কোটা রয়েছে, যা এয়ারলাইনসগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয় বেবিচক। এক্ষেত্রে কোটা পূরণ হয়ে গেলে কার্যক্রমে থাকা এয়ারলাইনসগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি দেয়া সম্ভব হয় না। কোনো এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা না করে ফ্রিকোয়েন্সি ধরে রাখলে রাজস্ব হারায় সরকার।

তিনি বলেন, এর আগে ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এয়ারলাইনসগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেটি এক বছর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ফ্রিকোয়েন্সি বণ্টন নীতিমালা চূড়ান্তকরণসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ফ্রিকোয়েন্সি বণ্টন ও নতুন বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ৮ মার্চ এয়ারলাইনসগুলোর অনুকূলে ফ্রিকোয়েন্সি পুনর্বরাদ্দ করা হয়। একই বছর ২৯ জুন পুনরায় ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দসংক্রান্ত বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বৈঠক-পরবর্তী কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের ছয় মাসের মধ্যে যদি কোনো এয়ারলাইনস তা ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি বাতিলের বিষয়ে বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ওই বছরের ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এয়ারলাইনসগুলোর অনুকূলে বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি এক বছরের মধ্যে ব্যবহার না করলে তা বাতিল করবে বেবিচক। তবে নীতিমালা না থাকার কারণে কার্যক্রমে না থাকা এয়ারলাইনসের অনুকূলে থাকা ফ্রিকোয়েন্সি বাতিল করতে গিয়েও বিভিন্ন সময় বাধার সম্মুখীন হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।