শেষ পাতা

ধলেশ্বরী দখলকারীর তালিকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ৪৬ নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৩২:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদীর জমি দখলদারদের একটি তালিকা গতকাল হাইকোর্টে জমা দেয়া হয়েছে। তালিকায় বেসরকারি একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও দুটি প্রতিষ্ঠানসহ ৪৬ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ তালিকা জমা দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতে জমা দেয়া তালিকায় ধলেশ্বরীর প্রায় সাড়ে ১১ একর জমির ওপর ‘মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড’ নামে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার তথ্য উঠে আসে। এছাড়া পেন্টা প্রপার্টিজ লিমিটেড ও জাগরণী চক্র নামে আরো দুটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩৭টি ক্রমিকে ৪৬ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ধলেশ্বরীর প্রায় ২৯ দশমিক ৬০ একর জমি রয়েছে এসব ব্যক্তিদের দখলে।

তালিকায় দেখা যায়, মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের কলম মিয়া, আবেদ আলী, সামছুল হক, ইব্রাহিম মিয়া, নোমাজ আলী, ইদ্রিস আলী, আছিয়া খতুন, আনোয়ারা বেগম, আলী আকবর, সাহেদ আলী, সামছুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল আলী, জিন্নত আলী, আব্দুল জলিল, সুন্দর আলী, দেলোয়ার হোসেন ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদের দখলে রয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ একর জমি। তাহজিব আলম সিদ্দিকীর মালিকানাধীন ‘মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড’-এর দখলে রয়েছে ১১ দশমিক ৩০ একর জমি। এর বাইরেও ধল্লা ইউনিয়নের জুলফিকারের দখলে রয়েছে দশমিক ৭০ একর, একই ইউনিয়নের ক্লাব জাগরণী চক্রের দখলে রয়েছে দশমিক ৩৪, আব্দুল বারেক-কমর উদ্দিন-আব্দুল খালেক-রিয়াজ উদ্দিন ও আবেদ আলীর দখলে রয়েছে দশমিক ৭৪, আবু তাহের মোল্লার দখলে দশমিক ৬২, ধল্লার জলিল-সলিম ও ঢাকার নিজাম উদ্দিনের দখলে দশমিক ৬৩, ঢাকার বিজয়নগরের মনিরুল ইসলামের দখলে রয়েছে ১ দশমিক ১৩, ফোর্ডনগরের আব্দুল মজিদ মোল্লার দখলে দশমিক ৭৫, ধল্লার আব্দুল হক-মোস্তাক আহাম্মদ ও শাকিল আহাম্মদের দখলে ১ দশমিক ৯৮, ধল্লার ইদ্রিস মোল্লার দখলে দশমিক ৭০, ঢাকার বাড্ডার পেন্টা প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম আক্তারুজ্জামান ও ধল্লার মহসিনের দখলে দশমিক ৭১, ধল্লার আব্দুল হামিদ-সিদ্দিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান মোল্লা ও ঢাকার লালমাটিয়ার রাকিবা আক্তারের দখলে ২ দশমিক শূন্য ২, ধল্লার মোসলেম উদ্দিন-আব্বাস আলী-সরবত আলী-তোফাজ্জল হোসেন-কলম মিয়া-আবেদ আলী-শামছুল হক-বছিরন-ইব্রাহিম মিয়া-নোমাজ আলী-ইদ্রিস আলী-আছিয়া খাতুন-আনোয়ারা বেগম-আলী আকবর ও ফরিদ আহাম্মদের দখলে রয়েছে ২ দশমিক ৯৭ ও মানিকগঞ্জের কালিবাড়ির মো. রমজান আলীর দখলে রয়েছে ১ দশমিক ৩২ একর জমি।

এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বণিক বার্তাকে বলেন, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এসেছে। বণিক বার্তার প্রতিবেদনে ডরিন পাওয়ার প্লান্টের জমি দখলের চিত্র উঠে আসে। পরে ওই বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসন বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম জমা দেয়।

গত বছরের ১৪ জুলাই বণিক বার্তায় ‘ধলেশ্বরী দখল করে ডরিন পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এরপর ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণে কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং একই সঙ্গে ধলেশ্বরী নদী দখল করে ‘ডরিন পাওয়ার’ নামের একটি কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চান হাইকোর্ট।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সচিব, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় সচিব, নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জন বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ধলেশ্বরীর সীমানা নিরূপণ ও অবৈধ দখল চিহ্নিত করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।