আন্তর্জাতিক ব্যবসা

জাপানের তৈরি যন্ত্রাংশের চাহিদা এক দশকের সর্বনিম্নে

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৩১:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাপানের তৈরি মেশিনারি বা যন্ত্রপাতির কদর থাকলেও ডিসেম্বরে এর ক্রয়াদেশ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কমে গেছে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার কারণেই এমনটা হয়েছে। চলতি প্রান্তিকে এসব মেশিনারির চাহিদা আরো কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ম্যানুফ্যাকচারাররা। খবর রয়টার্স।

জাপানের কেবিনেট অফিসের পক্ষ থেকে সোমবার প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, মূলধনি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান নির্দেশক হিসেবে পরিচিত কোর মেশিনারি ক্রয়াদেশ ডিসেম্বরে এর আগের মাসের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এটি তিন মাসের মধ্যে প্রথম পতন হলেও এ সংকোচনের মাত্রা ১ দশমিক ১ শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় কম। তবে মাসিক হিসেবে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতির ক্রয়াদেশ ২১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পতন। দেশগুলো থেকে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া বহির্বিশ্বের পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করছে।

এদিকে কেবিনেট অফিসের তথ্যটি এমন সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন কিনা ক্রমে সতর্ক হয়ে ওঠা বিনিয়োগ পরিবেশের কারণে বিক্রি হ্রাসের ধারণা করছে জাপানের শীর্ষ করপোরেটরা। যেসব ক্রেতার কাছে বিক্রি হ্রাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার মধ্যে ডাউনস্ট্রিম ম্যানুফ্যাকচারারও রয়েছে, যারা জাপানে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে থাকে।

মিত্সুবিশি ইউএফজে মরগান স্ট্যানলি সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ বাজার অর্থনীতিবিদ শুজি তনৌচি বলেন, ‘মূলধন ব্যয় খুব বেশি শক্তিশালী অবস্থায় থাকবে না এবং এটি জাপানের সার্বিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা মূলত বাণিজ্য বিবাদের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। বড় মাত্রায় অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং ম্যানুফ্যাকচারাররাও ক্রমে আরো সতর্ক হয়ে উঠছে।’

মন্ত্রিপরিষদের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই মাসে বিদেশ থেকে বড় ধরনের ক্রয়াদেশ এসেছে, ক্রয়াদেশে বর্তমান পতনের ক্ষেত্রে এরও আংশিক প্রভাব রয়েছে। পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, চলতি প্রান্তিকে বিদেশী ক্রয়াদেশ আরো ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কমে যাবে।

কেবিনেট অফিসের এক জরিপে ম্যানুফ্যাকচারাররা পূর্বাভাস দিয়েছেন জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোর ক্রয়াদেশ ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যাবে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে যা ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তথ্যে দেখা গেছে, ক্রয়াদেশ পতনের হার কেমিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, লজিস্টিকস ও নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি।

জাপানের এ পরিস্থিতির জন্য মূলত চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপকেই দায়ী করা হচ্ছে। এ কারণে এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে শ্লথগতি সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এতে কোনো মীমাংসা না হলে প্রস্তাবিত আরো শুল্ক আরোপ করা হবে, যার প্রভাবে জাপানের রফতানি নির্ভরশীল অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে এ বাণিজ্যযুদ্ধ জাপানের গাড়ি, ইলেকট্রনিকস এবং ভারী যন্ত্রপাতি শিল্পের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। এ খাতগুলো থেকে চীনে পণ্য রফতানি করা হয়, যা ব্যবহার করে চীন পণ্য উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে।

এ অবস্থায় জাপানের বিভিন্ন কোম্পানি পীড়ার মধ্যে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্যানাসনিক করপোরেশনের কথা বলা যায়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও কারখানায় ব্যবহূত উপকরণের চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি মাসের শুরুর দিকে কোম্পানিটি বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস কর্তন করেছে। কোম্পানিটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিরুকাজো উমেদা বলেন, ‘স্মার্টফোনের উপকরণ তৈরি করে—আমাদের এমন গ্রাহকরা বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়ায় যন্ত্রপাতির চাহিদা কমে গেছে।’

এদিকে ক্রেতারা সেমিকন্ডাক্টর তৈরির উপকরণের ক্রয়াদেশ স্থগিতের কারণে বিক্রয় পূর্বাভাস কর্তন করেছে নিকন করপোরেশন। উপকরণ ও ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতাদের থেকে ক্রয়াদেশ কম থাকার কারণে ডিসেম্বরে এর আগের মাসের তুলনায় জাপানের ম্যানুফ্যাকচারারদের কাছে ক্রয়াদেশ সাড়ে ৮ শতাংশ কমে গেছে।