শেয়ারবাজার

ইজিএমে নতুন বিদেশী বিনিয়োগ গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন  : ১৫৪.১ টাকা প্রিমিয়ামে নিপরোকে শেয়ার দিচ্ছে জেএমআই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১:৫৮:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

ওসাকাভিত্তিক নিপরো করপোরেশনের অনুকূলে ১ কোটি ১১ লাখ নতুন শেয়ার ইস্যু করে মোট ১৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ গ্রহণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডাররা। গতকাল অনুষ্ঠিত নবম বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) নিপরোর জন্য প্রতিটি শেয়ারের দর নির্ধারিত হয়েছে ১৬৪ টাকা ১০ পয়সা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে প্রিমিয়াম দাঁড়াচ্ছে ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে নতুন বিনিয়োগ গ্রহণ করবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ-রসায়ন খাতের কোম্পানিটি।

ইজিএম শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা প্রিমিয়ামে ১ কোটি ১১ লাখ শেয়ার ইস্যুর পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ২২ কোটি ২১ লাখ টাকা, বর্তমানে যা ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ নিপরো করপোরেশন হতে যাচ্ছে কোম্পানির অর্ধেকের বেশি শেয়ারের মালিক।

নতুন অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া মূলধন কোম্পানির অবকাঠামো উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, আংশিক ব্যাংকঋণ পরিশোধে খরচ করা হবে। কিছু অর্থ চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। শেয়ার ইস্যুর প্রক্রিয়াগত ব্যয় নির্বাহেও এ তহবিলের আংশিক খরচ হবে।

নিপরো করপোরেশন আগে থেকেই জেএমআই গ্রুপের একাধিক তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ব্যবসায়িক অংশীদার। বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অংশীদারিত্বেও আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে তারা। বিশ্বের ৫৭টি দেশে ওষুধ, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন এবং বাজারজাতের ব্যবসায় নিযুক্ত রয়েছে নিপরোর ৯১টি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনেও যথেষ্ট বিনিয়োগ করে জাপানি গ্রুপটি।

সাধারণ সভায় জেএমআই সিরিঞ্জেস ও মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক শেয়ারহোল্ডারদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, নিপ্রোর সঙ্গে ৬ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের গ্রুপের। তাদের প্রত্যক্ষ এ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি। এছাড়া প্রযুক্তিগত সাপোর্ট আমাদের আরো মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। বিশ্বের অনেক দেশে কোম্পানির পণ্য রফতানি করার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কোম্পানিটির এ উদ্যোক্তা। সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান জাবেদ ইকবাল পাঠানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকে বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপাত্ত অনুসারে, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস। বার্ষিক শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৮৬ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৭১ টাকা ২৭ পয়সা। এর আগে ২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে এর ইপিএস হয় ৬ টাকা ৭৮ পয়সা ও এনএভিপিএস ৬৭ টাকা ৬৪ পয়সা।

এদিকে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭৪ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ১৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ এ কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা ৯৫ পয়সা।

২০১৩ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি আরো আগেই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৩১ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রতিষ্ঠান ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ বিদেশী ও বাকি ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার শেয়ারটির সমাপনী দর ছিল ৩৮৪ টাকা। এক বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ১৭৪ টাকা ও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত ৫৫ দশমিক ৯৮, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে যা ৭০ দশমিক শূন্য ৭।